Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

শিরোনাম :
বালাগঞ্জে দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীসভা || প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বালাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দোয়া মাহফিল || বালাগঞ্জে করোনায় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের মৃত্যু || নৌকায় ভোট চেয়ে বালাগঞ্জে মতিউর রহমান শাহীনের গণসংযোগ অব্যাহত || বালাগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- কওছর আহমদ || বালাগঞ্জে বনগাঁও মাদ্রাসায় মতিউর রহমান শাহীনের অনুদান প্রদান || বালাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত || বালাগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত || নৌকায় ভোট চেয়ে বালাগঞ্জে মতিউর রহমান শাহীনের গণসংযোগ || উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন : হাবিব ||

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত : ফারজানা সামাদ চৌধুরী

 প্রকাশিত: ২৪, জুন - ২০২১ - ০৬:৩২:০৪ AM

কূল ডেস্ক :: স্বামী মাহমুদ-উস-সামাদ এমপির মৃত্যুর পর ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নেমেছিলেন স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী। ঈদ মৌসুমে ফেঞ্চুগঞ্জের নিজ বাড়িতে এসেও নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে উপনির্বাচনে চান আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন। স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফারজানা চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে দেয়া হয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নীরব হয়ে পড়েন ফারজানা। তবে নীরব হয়েও থাকতে পারেননি।

তাকে নিয়ে আলোচনা জমে ওঠে সিলেটের ভোটের মাঠে। স্বতন্ত্রী প্রার্থী হতে ১৪ই জুন আমেরিকা থেকে সিলেটে এসে ১৫ই জুন স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী। ফিরেই তিনি গণমাধ্যমের কাছে ফারজানা চৌধুরীর প্রসঙ্গ তোলেন। শফি আহমদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ‘আমেরিকা থাকা অবস্থায় ফারজানা সামাদের সঙ্গে তার কথা হয়। এ সময় ফারজানা তাকে প্রার্থী হওয়ার কথা বলেছেন। সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। মনোনয়নবঞ্চিত আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা যোগাযোগ করে তাকে প্রার্থী হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ কারণে তিনি প্রার্থী হয়েছেন।’ তার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিবও। সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ‘ভাবী (ফারজানা সামাদ চৌধুরী) তার সঙ্গে রয়েছে। তাকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’ ভোটের মাঠে দুই প্রার্থীর এ ধরনের পাল্টাপাল্টি কথায় ফারজানা চৌধুরী কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

এ ঘটনার কয়েকদিন পর সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে ফারজানা চৌধুরী জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান স্বরূপ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ফারজানা চৌধুরী তার অভিমত তুলে ধরে বলেন- ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামীতেও আমি আপনাদের সঙ্গে থাকবো ইন্‌শাআল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফারজানা সামাদ চৌধুরী বলেন- ‘আমার স্বামী মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী এমপি’র মৃত্যুতে সিলেট-৩ (ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ)সহ দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের জনগণ উনার প্রতি যে অফুরন্ত ভালোবাসার প্রকাশ দেখিয়েছেন তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। এলাকার সমস্ত জনগণের সহমর্মিতা আমাকে আপ্লুত করেছে। কি ভাষায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো আমি জানি না। আপনারা প্রতিনিয়ত আমার সঙ্গে থেকে, আমাকে উৎসাহ দিয়ে, আমার প্রতি যে নিরঙ্কুশ সমর্থন এবং সাহস জুগিয়েছেন তার ফলে আমার মরহুম স্বামীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে আমি এ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছে পোষণ করেছিলাম। নিরঙ্কুশ সমর্থনের জন্য আমি আপনাদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের এ ভালোবাসা আমাকে চিরঋণী করেছে। আপনারা জানেন এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ আগামীতে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করে ফারজানা বলেন- ‘মনোনয়ন না পেলেও অতীতে আমার মরহুম স্বামী যেভাবে আপনাদের সঙ্গে ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামীতেও আমি আপনাদের সঙ্গে থাকবো ইন্‌শাআল্লাহ। আমার প্রয়াত স্বামীর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতবাসী করেন। আমার পরিবারের জন্যও আপনারা দোয়া করবেন। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন এই কামনা করি।’

এদিকে, সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুসংগঠিত হতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমায় বর্ধিত সভা করা হয়েছে। এখন চলছে ইউনিয়নভিত্তিক বর্ধিত সভা। এসব সভার মাধ্যমে নৌকার পক্ষে এলাকাভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান জানিয়েছেন, ‘সিলেট-৩ আসনে নৌকার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা এক হয়ে মাঠে নামবেন। সেই প্রস্তুতি এখন চলছে। এ আসনের কোথাও কোনো গ্রুপিং হচ্ছে না। অতীতে কী হয়েছে আমরা জানতে চাই না। ভবিষ্যতে যাতে দলের ভিতরে কোনো বিভক্তি না হয় সেদিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। জেলার নেতারাও সেটি মনিটরিং করছেন।’

কূশিয়ারারকূল/ইমনশাহ্/২১ সৌজনো- মানবজমিন

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top