Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

শিরোনাম :
বালাগঞ্জে দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীসভা || প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বালাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দোয়া মাহফিল || বালাগঞ্জে করোনায় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের মৃত্যু || নৌকায় ভোট চেয়ে বালাগঞ্জে মতিউর রহমান শাহীনের গণসংযোগ অব্যাহত || বালাগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- কওছর আহমদ || বালাগঞ্জে বনগাঁও মাদ্রাসায় মতিউর রহমান শাহীনের অনুদান প্রদান || বালাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত || বালাগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত || নৌকায় ভোট চেয়ে বালাগঞ্জে মতিউর রহমান শাহীনের গণসংযোগ || উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন : হাবিব ||

করোনার কারণে অভিনেতা থেকে মাছ বিক্রেতা

 প্রকাশিত: ২৪, জুন - ২০২১ - ০১:৩৯:৪২ AM

 
কূল বিনোদন ডেস্ক :: মহামারী করোনা অনেককে বসিয়েছে পথে, বানিয়েছে কর্মহীন। দফায় দফায় শুটিং বন্ধ হওয়ার ফলে কলকাতার নামী অভিনেতা শ্রীকান্ত মান্নাও পড়েন বিপাকে। তাই তিনি পেটের দায়ে আজ মঞ্চ, শুটিং ফ্লোরের অপেক্ষা ছেড়ে মাছ নিয়ে বসছেন বাজারে। দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিনয়জীবন তার। ‘সংস্তব’ নাট্য দলে নিয়মিত অভিনয় করতেন শ্রীকান্ত। এছাড়াও বহু বাংলা ছবি, মেগা সিরিয়াল ও শর্ট ফিল্মে দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন। এক সময়ে মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তীর, আবির চট্টোপাধ্যায়ের মতো বড় বড় অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। তার সংসার চলত অভিনয় থেকে উপার্জিত টাকাতেই।
 
কিন্তু অগত্যা পেটের দায়ে বেছে নিয়েছেন নতুন পেশা। অভিনেতা থেকে তিনি আজ মাছ বিক্রেতা। কোনও কাজকেই ছোট মনে করেন না তিনি। শ্রীকান্ত মান্না বলেন- অভিনয় আমার মনের খিদে মেটায় আর মাছ বিক্রি আমার পেটের খিদে মেটাচ্ছে। দুটোই কাজ। রকমটা আলাদা শুধু। প্রথম প্রথম যখন বাজারে বসতাম মুখ ঢেকে রাখতাম ভালোভাবে, যাতে কেউ আমায় চিনতে না পারে। বাড়ি গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মেকআপহীন ‘আমাকে’ দেখতাম। একদিন ভাবলাম, আজ যদি এরকম কোনও রোল আমাকে মঞ্চে বা অনস্ক্রিনে করতে হতো, তখন যদি এরকম আমার লজ্জা লাগত কিংবা ইতস্তত করতাম তা হলে তো চরিত্রটা থেকে পরিচালক আমায় বাদ দিয়ে দিতেন। বের করে দিতেন ফ্লোর থেকে।
 
এই অভিনেতা আরও বলেন- সে দিনের পর থেকে আর আমি লজ্জা পাই না। মাছ বিক্রি করছি বলে আমার কোনও লজ্জা নেই। আফসোসও নেই। কারণ আমার পেটের জ্বালা মিটছে আজ এই পেশাতেই। যখন কাজকর্ম হারালাম আর চলছিল না সংসার তখন ঠিক করেছিলাম এমন একটা রাস্তা বের করব যেটাতে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব। ২০২০ থেকে আজ অবধি যে দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা দিন কাটাচ্ছি তাতে অনেকেই পেশা বদলে অন্য চাকরি করছেন কেউ বা ব্যবসা করছেন।
 
শ্রীকান্ত বলেন- চাকরির চেষ্টা করিনি, কারণ আমি জানি একদিন না একদিন আবার চরিত্র মিলবে, মঞ্চের পর্দা উঠবে, সেদিনও আমি চাকরিটা ছাড়ব না। কারণ দুঃসময়ে যে কাজটা আমাকে অন্ন জোগাবে তাকে ছেড়ে দেওয়া মানে বেঈমানী করা।  ভোর ৫ টা থেকে বেলা ১২ টা কি বড়জোর দুপুর ১ টা অবধি কাজ করার পর আমি ফ্রি। তখন আমি বাড়ি ফিরে গান শোনা, সিনেমা দেখা এগুলো আজ করতে পারি। অভিনয়ের সুবাদে অনেকে আপনাকে চেনে। তাদের মধ্যে কেউ আপনাকে দেখে চিনতে পারেনি? তাদের কাছ থেকে কীরকম প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রীকান্ত বলেন- প্রথমে অবাক হয়েছেন। পরে উৎসাহ দিয়েছেন। বলেছেন, আমরাও ভালোভাবে বাঁচার জন্য অন্য আরও কোনও পথ খুঁজছি। পাড়া প্রতিবেশী, অভিনেতা বন্ধুরা, সাংবাদিকরাও আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন তারা আমার জন্য গর্বিত। আর কী চাই?
 
কূশিয়ারার কূল/ইমনশাহ্/২১

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top