Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

শিরোনাম :
প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ইউকে’র সভাপতি আতাউর রহমান || বালাগঞ্জে দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীসভা || প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বালাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দোয়া মাহফিল || বালাগঞ্জে করোনায় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের মৃত্যু || নৌকায় ভোট চেয়ে বালাগঞ্জে মতিউর রহমান শাহীনের গণসংযোগ অব্যাহত || বালাগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- কওছর আহমদ || বালাগঞ্জে বনগাঁও মাদ্রাসায় মতিউর রহমান শাহীনের অনুদান প্রদান || বালাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত || বালাগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত || নৌকায় ভোট চেয়ে বালাগঞ্জে মতিউর রহমান শাহীনের গণসংযোগ ||

শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, যা বললেন বিশিষ্টজনেরা

 প্রকাশিত: ১৯, মার্চ - ২০২১ - ০৭:১৯:১৫ PM

শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি

 

গত ১৭ এপ্রিল, ২০২১ তারিখ একটি ফেইসবুকের পোষ্টকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা সুনামগঞ্জের শাল্লায় একটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিচার দাবি করে বলা হয়েছে, ‘ঘটনায় প্রকাশ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী নেতা মামুনুল হকের বক্তব্যের প্রতিবাদে হবিপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামে এক যুবক ফেইসবুকে একটি পোষ্ট দেন। এ ঘটনাকে ধর্মীয় উস্কানির অজুহাত দিয়ে ওই এলাকার হেফাজত নেতার অনুসারীরা রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পুলিশ ঐ রাতেই ঝুমন দাস আপনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ১৭ মার্চ সকালে কাশিপুর, নাচনী, চন্ডিপুরসহ কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কয়েক হাজার অনুসারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাও গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হাজারো মানুষের আক্রমণে গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এই সুযোগে হেফাজত নেতার অনুসারীরা গ্রামে প্রবেশ করে বাড়ীঘর তছনছ করে। লুটপাট চালায়। ঘটনায় ৭০/৭৫টি বাড়ী এবং ৬টি মন্দির ভাংচুর হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, করোনাকালীন সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে এটা তারই আর একটি লজ্জাজনক উদাহরণ।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি পরিচিত কৌশল হচ্ছে ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়েছে এই অজুহাতে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘরে হামলা করা, আগুন লাগানো ইত্যাদি। পাবনার সাঁথিয়া (২০১৩ সাল) , কক্সবাজারের রামু (২০১২ সাল), ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর (২০১৬ সাল) সব ক্ষেত্রে ্একই ধরণের গল্প তৈরীর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। রংপুরের গংগাচড়া ও সদর ইউনিয়নে একই ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ১৫ মে, ২০২০ করোনাকালীন লক-ডাউনের মধ্যেও ভোলার মনপুরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রায় ১০ টি হিন্দু বাড়ী-ঘর ভাংচুর করা হয় এবং কথিত হিন্দু যুবকে গ্রেফতার করা হয়। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যার নামে ফেসবুকে কথিত স্ট্যাটাস দেয়ার কথা বলা হয় পুলিশ তাকেই গ্রেফতার করে এবং এখন বেশিরভাগ ঘটনার তদন্ত শেষ হয়না এবং প্রকৃত অপরাধীরা কখনোই আইনের আওতায় আসেনা। এ ধরনের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগ, তারা নিরাপরাধী হয়েও লম্বা সময় জেল খেটেছে কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। নাসিরনগরের রসরাজ এবং রামু’র উত্তম বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এবং রংপুরের টিটু রায়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সর্বশেষ সুনামগঞ্জের শাল্লার ঘটনা তার নিকৃষ্ট উদাহরণ। এই ফেসবুকে সাজানো ঘটনার পিছনে একটা অসৎ উদ্দেশ্য থাকে ধর্মীয় বিদ্বেষকে উস্কে দেয়া। এর পেছনে উগ্র সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক মদদ যুক্ত থাকে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, তাদের হয়রানি এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাসহ পূর্বে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে সকল ঘটনা ঘটেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেলের সমন্বয়ক শামসুল হুদা প্রেরিত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতারা হচ্ছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এড. সুলতানা কামাল, আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক, নারী নেত্রী ও নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং এইচ.ডি.আর.সি’র অবৈতনিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক এড. রাণা দাশগুপ্ত, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী সদস্য ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এড. জেড. আই. খান পান্না, সামাজিক আন্দোলনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এড. তরারক হোসাইন, অর্পিত সম্পত্তি প্রতিরোধ আন্দোলনের এড. সুব্রত চৌধুরী এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরও খবর


সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top