Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৮ রবি-উস-সানি ১৪৪২

৩২ বছর আগের সীমা হত্যা মামলা ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

 প্রকাশিত: ০৮, অক্টোবর - ২০২০ - ১২:৪৩:১৩ AM

No description available.

কূল ডেস্ক :: ৩২ বছর আগে পুরান ঢাকায় সংঘটিত সীমা মোহাম্মদী হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। হাইকোর্ট ওই মামলাটির বিচার তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে মামলায় যে সাক্ষীর (চিকিৎসক) জন্য মামলাটির বিচার আটকে আছে তার সাক্ষ্য না পাওয়া গেলে তার সাক্ষ্য ছাড়াই অন্যান্য নথিপত্রের ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও এ সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে না পারলে বিচারকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন। সীমা হত্যা মামলার বিচার নিম্ন আদালতে ঝুলে থাকা নিয়ে গত ৬ অক্টোবর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। 

আজ প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনার পর বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি তা পড়ে দেখেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতামত জানতে চান। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আপনারা আদেশ দিতে পারেন। এ সময় আদালত বলেন, একটা মামলা বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকবে, বিচার হবে না, তাতো হতে পারে না। এরপর আদালত তিনমাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির আদেশ দেন। 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পুরোন ঢাকার জগন্নাথ সাহা রোডে ১৯৮৮ সালের ২৬ এপ্রিল খুন হয় সীমা মোহাম্মদী (২০)। এ ঘটনায়  মোহাম্মদ আহমদ ওরফে আমিন নামে এক যুবককে আসামি করে লালবাগ থানায় মামলা করেন সীমার মা ইজহার মোহাম্মদী। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৫ জুন একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। কিন্তু আসামি পলাতক থাকায় ১৯৯৯ সালের ২২ জুন তাকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০০১ সালের ২৯ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ঢাকার বিচারিক আদালত। 

অভিযোগ রয়েছে, সাক্ষ্য প্রদানে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের অবহেলার কারণে বারবার সাক্ষ্যগ্রহণ তারিখ পিছিয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রভাষক আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য দিতে অদ্যাবধি আদালতে হাজির হননি। ফলে গত ১৯ বছরে মামলার সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য ১১২ বার তারিখ পড়েছে। পাশাপাশি ওই আদালতের ১১ জন বিচারক বদল হয়েছে। এরইমধ্যে মামলার বাদিও মারা গেছেন। এদিকে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখ আগামী ১৮ নভেম্বর ধার্য রয়েছে বলে জানা গেছে। 

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরও খবর


সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top