Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১২ রবি-উস-সানি ১৪৪২

সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়ক

সড়ক নয়, এ যেন নরক!

 প্রকাশিত: ০২, অক্টোবর - ২০২০ - ১০:১৩:২১ PM

নিজস্ব প্রতিবেদক:: “সড়ক নয়, এ যেন নরক!” রাস্তার বেহাল দশায় এমন মন্তব্য সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী জনগনের। হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। কখনও গাড়ি উল্টে যাচ্ছে, কখনও আটকে পড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। খানাখন্ড আর কাদা-জলে একাকার হওয়ায় দির্ঘ এই সড়কটিতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ। সড়কটির স্থানে-স্থানে খালে পরিণত হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।

সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামত কাজে ধীরগতিতে এমন দুর্ভোগে রয়েছেন সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বালাগঞ্জ, ক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জসহ চারটি উপজেলার মানুষজন। কয়েক বছর ধরে চরম ভগ্নদশায় থাকা এই সড়কটির সংস্কার কাজ দেড় বছর আগে শুরু হলেও সড়কে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি এবং সড়ক সংস্কার কাজের তদারকির ায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তারে উদাসীনতার জন্যই এমনটি হয়েছে। বাস্তবে বাজার এলাকার কিছু জায়গায় আরসিসি ঢালাই ছাড়া তেমন কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। ভগ্নদশার কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অটোরিকসাই এখন ভরসা। যানবাহনগুলো খানাখন্দে উল্টে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ভোগের সঙ্গে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামত কাজের উদ্বোধন করা হয় ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ। সড়কটি ১২ফুট থেকে উন্নিত করে ১৮ ফুট প্রশস্তকরণসহ সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সর্বনিম্ন রাতা হিসেবে কাজটি পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন (জেবি) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কালক্ষেপণ করায় কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙা সড়কের কারণে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। স্থানে-স্থানে গর্তে জলাবদ্ধ পানিতে আটকা পড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কটি সংস্কারের নামে আরও দুর্ভোগ বাড়ছে। শুকনো মৌসুমে ধুলা আর বর্ষায় কাা-জল আমাদের নিত্য সঙ্গী।

অটোরিকসা শ্রমিক ইউনিয়ন আজিজপুর শাখার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম ও সিএনজি চালক আওলাদ মিয়া বলেন, সড়কটি গাড়ি চলাচলের মোটেও উপযোগী নয়। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। স্থানে-স্থানে গর্তে আটকা পড়তে হয়। সময়ের তো কোনো হিসেব নেই, আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে গাড়ি মেরামতে।

বালাগঞ্জ উপজেলার সারসপুর গ্রামের বাসিন্দা সদরুল হাসান নবীন বলেন, সড়কটির সংস্কার কাজ না করে এভাবে ফেলে রাখার মানেটা কী? যত ভোগান্তি যাত্রীদের তাতে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

মোরার বাজারের ব্যবসায়ী গুলজার আহমদ জাকারিয়া ও আজিজপুর বাজারের ব্যবসায়ী রাজন আহমদ বলেন, সড়কের গর্তগুলো ডোবায় পরিণত হয়েছে কয়েকটি বাজার এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক। আর কতকাল দুর্ভোগ পোহাতে হবে তা আল্লাই জানেন। ড়ে বছর আগে কাজ শুরু হলেও দৃশ্যত তেমন কাজ হয়নি। ঠিকাারী প্রতিষ্ঠান নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করলেও তা দেখার কেউ নেই।

সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়ক প্রসস্তকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ৩৫ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে। করোনা এবং পাথর সংকটের কারণে কাজের গতি কিছুটা কম ছিল। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ূয়া বলেন, সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকলে মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হবে। কোভিড পরিস্থিতি ও পর্যাপ্ত পাথর না পাওয়ার কারণে কাজের ধীরগতি হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top