Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১২ রবি-উস-সানি ১৪৪২

ওসমানীনগরে নানা অনিয়মে মুখ তুবড়ে পড়েছে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প

 প্রকাশিত: ২৪, ডিসেম্বর - ২০১৯ - ১২:৪৬:১৫ AM

বিশেষ প্রতিনিধি :: ওসমানীনগর উপজেলায় নানা অনিয়মে পরিচালিত হচ্ছে ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প’। ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে সদস্যদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তাদেরকে হেনস্থা ও হয়রানি করা হচ্ছে। সদস্যদের নামে মামলা করারও হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি কিস্তির টাকা দিতে বিলম্ভ হলে সদস্যদের বাড়ি থেকে ধরে এনে অফিসে বেঁধে রাখারও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে গ্রাম উন্নয়ন সমিতির একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন। যদিও সদস্যদের বাড়িবাড়ি গিয়ে এধরণের ক্রাশ প্রোগ্রাম করা কিংবা খেলাপি সদস্যদের নামে মামলা করার লিখিত কোনো নির্দেশনা দেননি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্ভট পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সদস্যরা সমিতিকে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায়- এ উপজেলায় প্রকল্পটি মুখ তুবড়ে পড়েছে।

এবিষয়ে প্রকল্প অফিসের কয়েক জন মাঠ সহকারী বলেন- উপজেলা সমন্বয়কারীর কঠোর নির্দেশেই তারা সদস্যদের সাথে এমন আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যতায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী (ইউসিও) রুবেল আহমদ এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকে তিনি ব্যক্তিগত নিয়মে প্রকল্প অফিস পরিচালনা করছেন। প্রকল্প অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও মাঠ সহকারীদের মধ্যে তিনি দ্বন্ধের সৃষ্টি করিয়ে তার মনোনিত কথিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারি দিয়ে অফিসে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কারণে-অকারণে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের হেনস্থা করে প্রশাসনিক শাস্তির ভয় দেখান। তার অশালীন আচরণে অতিষ্ট হয়ে এক কর্মকর্তা বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। সম্প্রতি অসুস্থ অবস্থায় দুইজন মাঠ সহকারী (নারী-পুরুষ) ইউসিও’র কাছে ছুটি চাইলে তিনি ছুটি দেননি। অফিস চলাকালে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সদ্য যোগদান করা মাঠ সহকারীদের কাজে ইউসিও কোনো ধরণের সহযোগীতা করছেন না। তাদেরকে কাজ বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো শোকজের ভয় দেখান। এসিআর ও শোকজের ভয়ে তারা কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না। সব ধরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও ঋণ প্রদানে দুই থেকে তিন মাস বিলম্ব করা হচ্ছে। ঋণ গ্রহিতা নারী সদস্যদের অফিসে নিয়ে দিনের পর দিন ঘুরানো হচ্ছে। ঋণ বিতরণকালে সদস্যদের ইউসিও’র রুমে ঢুকতে দেয়া হয়না। কারণ অফিসে এসেই তিনি চাকরীর ইন্টারভিউ’র বই পড়তে ব্যস্থ থাকেন। এতে সদস্যদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। ঋণ গ্রহণে এসব ঝামেলার শিকার হওয়ায় সদস্যরা ঋণের কিস্তি প্রদানে অনিহা দেখান বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ঋণ প্রদানে বিলম্বের বিষয়ে মাঠ সহকারীরা ইউসি’র দোহাই দিয়ে সদস্যদের শুধু শান্তনা দিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ছয়মাস আগে উপজেলার গ্রাম উন্নয়ন সমিতিগুলোর দায়িত্বে থাকা সভাপতি-ম্যানেজারদের সম্মানী ভাতার বরাদ্দ আসলেও তাদেরকে সম্মানী ভাতা দেয়া হয়নি। ভাতার জন্য অফিসে গেলে উপজেলা সমন্বয়কারী তাদের সাথে প্রায়ই খারাপ আচরণ করছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। ফলে সমিতি কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের অনিহা রয়েছে। এবিষয়ে গত সপ্তাহে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পর ইউসিও তড়িগড়ি করে কয়েক জনকে অফিসে ডেকে নিয়ে সম্মানী ভাতা প্রদান করেন।

মাটিহানী গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্য বাদল মিয়ার স্ত্রী আফিয়া বেগম বলেন, আমরা দশ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে নিয়মিত কিস্তি দিচ্ছি। একটি কিস্তি গ্যাপ হওয়ায় (১৬অক্টোবর) হঠাৎ করে খামারের নয়-দশ জন লোক আমার ঘরে এসে কিস্তির টাকা চেয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। জামতলা গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার আব্দুল মুমিন ও পন্ডিত পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার রমজান আলীসহ একাধিক সমিতির সভাপতি-ম্যানেজার জানান, সম্মানীর বরাদ্দ আসলেও দির্ঘদিন অফিসে সেই ভাতার টাকা আটকে রাখা হয়। এবিষয়ে প্রকল্প অফিসের লোকজনের সাথে বাববার যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর মিলেনি। শুনেছি সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পর ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার তানজিনা শারমীন বলেন, ইউসিও স্যারের নির্দেশেই আমরা মাঠ সহকারীদের সাথে নিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম করছি। প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী রুবেল আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খেলাপী আদায়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ক্রাশ প্রোগ্রাম করা হচ্ছে। সভাপতি-ম্যানেজারদে সম্মানী ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে হয় তাই কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে ঋণ প্রদানে এখন আর আগের মত বিলম্ব হয়না। আমার বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। হয়ত ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা মিঠাতে কেউ এমনটা বলেছে। এবিষয়ে প্রকল্পের সিলেট জেলা সমন্বয়কারী তানিয়া আক্তার বলেন, ক্রাশ প্রোগ্রাম করার কোনো নির্দেশনা নেই। অফিসিয়াল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে ঋণ প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। আমি ওসমানীনগরে গিয়ে সার্বিক বিষয়গুলো দেখব।

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top