Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৩ সফর​ ১৪৪৩

শিরোনাম :
প্রিয় নেত্রীর সাথে মন উজাড় করে কথা বলেছি- এমপি হাবিব || দল শক্তিশালী করতে এমপিদের সাংগঠনিক দায়িত্বে লাগাম টানার ইঙ্গিত || আ.লীগের ২০ নেতাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা || বাফুফের রেফারি হলেন বালাগঞ্জের ফুটবলার আঞ্জব || শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কে হচ্ছেন নৌকা এর মাঝি? || সিলেট-৩ আসনের নবনির্বাচিত এমপিকে মতিউর রহমান শাহীনের অভিনন্দন || শফিক চৌধুরীকে মতিউর রহমান শাহীনের অভিনন্দন || সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রীমঙ্গল বিএনপি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ || সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে শফিক চৌধুরী || সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের হাবিব বিপুল ভোটে বিজয়ী ||

রাজাকারের তালিকা: পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত যত দ্রুত সম্ভব তত মঙ্গল

 প্রকাশিত: ১৬, ডিসেম্বর - ২০১৯ - ১১:০৪:৫২ PM

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারের তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ ৪৮ বছর লেগেছে রাজাকারের তালিকা প্রকাশে। এত সময় যেহেতু অতিবাহিত হয়েছে, আরও সময় লাগতো, প্রয়োজনে আরও কয়েক বছর। নিখুঁত একটি তালিকা করার জন্য আরও কয়েক বছর সময় নিয়ে তথ্য উপাত্ত বারবার যাচাই বাছাই করে শুদ্ধ একটি তালিকা করা দরকার ছিল।

তালিকা প্রকাশের পর প্রশ্ন জাগছে- মুক্তিযুদ্ধকালীন থানা, মহকুমা এবং জেলাতে রাজাকারের যে তালিকা সংরক্ষিত ছিল, রাজাকারের তালিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং বিতর্কিত করতে ওই তালিকার সাথে নতুন করে নাম ঢুকিয়ে যে দেয়া হয়নি সেটার নিশ্চয়তা কী?

এর কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যায়। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবল হক রাজাকারের তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছেন। জানা যায়, তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন জেলা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন এবং পাথরঘাটা থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও তিনি।

অন্যদিকে বাম নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী। উনার মুক্তিযোদ্ধা বাবার স্থান হয়েছে রাজাকারের তালিকায়। মনীষার ঠাকুরদা অ্যাডভোকেট সুধীর কুমার চক্রবর্ত্তীকে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল। অথচ তার সহধর্মিণী উষা রানী চক্রবর্ত্তীকে রাজাকারের তালিকায় ৪৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রয়াত অ্যাডভোকেট মিয়া মো. মহসিন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক এমপি। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পানিপিয়া মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্পের পরিচালক ছিলেন এবং ওই ক্যাম্পের সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ তারই স্বাক্ষরিত। কী দুর্ভাগ্য, উনার নামও রাজাকারের তালিকায়!

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হল স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের বিচারের জন্য গঠিত 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল'-এর চিফ প্রসিকিউটর একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গোলাম আরিফ টিপুর নামও রয়েছে রাজাকারের তালিকায়!

রাজাকারদের তালিকা প্রকাশকালে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, 'দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংরক্ষণাগারে মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা দালিলিক প্রমাণাদি রয়েছে, ওই সময়ের সংরক্ষিত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা আশানুরূপ সাড়া পাইনি।’

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের এই কথা থেকে বুঝা যাচ্ছে কতটা অগোছালো আর সমন্বয়হীনতা ছিল রাজাকারের তালিকা নিয়ে।

তাই, রাজাকারের এই তালিকা নিয়ে যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে ততই মঙ্গল। জয় বাংলা!

লেখক: শাহআলম সজীব
সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বালাগঞ্জ উপজেলা শাখা।

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top