Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বালাগঞ্জ নৌ-বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

 প্রকাশিত: ০৫, জুলাই - ২০২০ - ০৮:০৩:০৭ PM

KUSHIARA RIVER IN SYLHET | RIVERS OF BANGLADESH | সিলেটের ...

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বালাগঞ্জ এলাকায় নৌ বন্দর স্থাপনের লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের টি এ শাখার উপ-সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২৮জুন প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বালাগঞ্জে নৌ-বন্দরের তফসিলে পশ্চিমে হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জ উপজেলা ও পুর্বে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা যায়, কুশিয়ারা নদী একদিন আপন ঐশ্বর্যে ভরপুর ছিল। ছোট-বড় ডলফিন, শোশক ইলিশসহ বহু প্রজাতির মাছ খেলা করতো। উত্থাল শ্রোতে চলতো পাল তোলা নৌকা। লঞ্চ, স্টীমার ও জাহাজ চলতো সারা বছর। তৎসময়ে নৌঘাটকে কেন্দ্র করে ঘাটে-ঘাটে ছিল নৌকার ভিড়, ছিল কুলি-শ্রমিকদের কোলাহল। কুশিয়ারা নদীকে কেন্দ্র করে বালাগঞ্জ বাজার, শেরপুর ঘাট ও ফেঞ্চুগঞ্চ বাজার ছিল সদা কর্মতৎপর সচল নৌবন্দর। বিস্তীর্ণ জনপদে কুশিয়ারা নদীর সেচের পানিতে হতো চাষাবাদ। অনেক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অবলম্ভন ছিল এই কুশিয়ারা। কিন্তু এখন নদীর দিকে থাকানো যায়না।
দিন-দিন যেন সংকীর্ণ হয়ে আসছে তার গতিপথ। অথৈই জলের পরিবর্তে কেবল কান্নার সুরই যেন ভেসে আসে কুশিয়ারা বুক থেকে। তাইতো বছরের অধিকাংশ সময় শ্রোতহীন অবস্থায় থাকছে কুশিয়ারা। তাছাড়া বিগত কয়েক বছর যাবৎ নদীতে চর জেগে ওঠায় প্রভাবশালী মহল বিশেষ বালু ব্যবসায় মেতে উঠেছে। আর অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে নদী পারে দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কলিকাতা-করিমগঞ্জ ভায়া কুশিয়ারা নৌপথে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে স্টীমার ও জাহাজ নোঙর করত। এর মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ স্টীমার ঘাটে যাত্রা বিরতি ছিল অদিকতরও বেশী। তৎকালীন সময়ে কুশিয়ারা নদী দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস পারচালিত হতো।
এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন লঞ্চ ও নৌ সার্ভিসতো ছিলই। যা-১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়া পর্যন্ত তা চালু ছিল।

প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছর যাবৎ বালাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালাগঞ্জে নৌ-বন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার আবেদন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ধাপে-ধাপে নদী এলাকার তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের নিকট একটি চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায়।

Top