Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জ্বিলক্বদ ১৪৪১

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর স্বাস্থ্য বিভাগে করোনার থাবা: ঝুঁকির মধ্যেও নির্বিঘ্ন সেবাদান

 প্রকাশিত: ২৯, জুন - ২০২০ - ০৮:২১:৫৯ AM

নিজস্ব প্রতিবেদক::
জনবল সংকটে ধুঁকছে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। মঞ্জুরীকৃত পদ সংখ্যার বিপরীতে স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও স্টাফ নিয়ে করোনাকালে দুই উপজেলায় নির্বিঘ্ন সেবাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২৩ জুন বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ২জন অফিস সহকারী, ১১ জুন ১জন অফিস সহকারী, ১জন পরিচ্ছন্নকর্মী এবং ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন চিকিৎসক ও একজন স্টাফ-এর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

কর্মরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে দুই উপজেলার এই ৬জন করোনা আক্রান্ত হন। তবে করোনা আতঙ্ক তাড়া করলেও বালাগঞ্জ হাসপাতালসহ দুই উপজেলার চিকিৎসক ও অন্যান্য স্টাফরা আইসোলেশনে যাননি। বিবেকের তাগিদে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে তারা সেবাদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালাগঞ্জ হাসপাতাল কমপ্লেক্সের দু’তলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯ শয্যার ‘করোনা আইসোলেশন ইউনিট’। আউটডোর-ইনডোরে রোগীরা নিয়মিত সেবা নিচ্ছেন। করোনাকালে মানুষের দূরগোড়ায় দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে হটলাইন নাম্বার। জনবল সংকটের কারণে সুষ্টুভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসকদের এনে উপজেলা সদরের এই হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্টিত ৩১ শয্যার বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত ১৯৯টি পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এখানকার ৪জন চিকিৎসককে অন্যত্র স্থানে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। বর্তমানে ৪জন চিকিৎসক ও ৫জন নার্স চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এদিকে অভিভক্ত বালাগঞ্জ উপজেলাকে খন্ডিত করে ওসমানীনগর উপজেলা গঠিত হওয়ায় ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বালাগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের অধিভুক্ত রয়েছে। ফলে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বালাগঞ্জ হাসপাতাল কতৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ওসমানীনগরের করোনা রোগীদের নমুনাও সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তদারকিতে দুই উপজেলায় কাজ করছে ‘করোনা রেসপন্স টিম’। এছাড়া দুই উপজেলার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে দেয়া হচ্ছে করোনা সেবা। প্রতিটি ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার বা চিকিৎসক টিম কাজ করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা।

বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী ২৯জুন পর্যন্ত বালাগঞ্জে ১৭০জনের করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট এসেছে-১০৯ জনের, পজিটিভ-১৫ জন, সুস্থ-৯জন ও বর্তমানে আক্রান্ত-৬জন। একই তারিখ পর্যন্ত ওসমানীনগর উপজেলায় ৩০২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, রিপোর্ট এসেছে-২১৮জনের, পজিটিভ-৩৮জন, সুস্থ-২৫জন, মারা গেছেন-২জন ও বর্তমানে আক্রান্ত-১১জন।

দুই উপজেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা বলেন, প্রাণঘাতি করোনার ভয়াল থাবায় অনেক চিকিৎসকের প্রাণহানি ঘটেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা ঝুঁকির মধ্যে থেকেও সেবা দিচ্ছি। কঠিন এই দুর্যোগকালের সেবাদান কার্যক্রমকে ম্লান করতে চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততা নেই; এমন বিষয়গুলো নিয়ে অতি উৎসাহী হয়ে কথিপয়রা আজগুবি তথ্য প্রচার করছে। যা খুবই দুঃখজনক। নিজেদের জাহির করতে ব্যক্তি স্বার্থের হীন চরিতার্থে এসব অপপ্রচারে আমরা ব্যতিত হই।

করোনাকালে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবাদানের সার্বিক বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: এসএম শাহরিয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ বুথ ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের পক্ষ থেকে হাসপাতালে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে উপজেলার তাজপুর ও বুরুঙ্গা ইউনিয়নে নমুনা পরীক্ষার জন্য পৃথক বুথ স্থাপিত হয়েছে। ঠিকা কার্যক্রম সাময়ীক বন্ধ থাকলেও ফের চালু করা হয়েছে।

ডা: শাহরিয়ার বলেন, আমাকে একসাথে দুই উপজেলার দায়িত্ব করতে হচ্ছে। সিলেটের অন্যান্য উপজেলা হাসপাতালে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেয়া হলেও আমরা কোনো গাড়ি পাইনি। এরপরও  আমরা মানুষকে সেবা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। করোনার নমুনা পরীক্ষার ‘টেস্ট টিউবের’ অপ্রতুলতা থাকায় আমরা নিজ উদ্যোগে তা সংগ্রহ করি। দ্রুত রিপোর্টগুলো পেতে আমরা তাগিদ দিয়ে যাচ্ছি। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের অনুষ্ঠান না করে সেই টাকা দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে দুস্থ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেই। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন অর্থ সংগ্রহ করেন, তারাও মানুষকে সহায়তা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় সেবাদানে ব্যঘাত ঘটছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবনটি নির্মাণাধীন রয়েছে। দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোর মধ্যে এটি প্রথম সাত তলা বিশিষ্ট ভবন হিসিবে নির্মিত হচ্ছে। সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সাহেবের প্রত্যক্ষ তদারকিতে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল এলাকায় কুশিয়ারা নদীর তীর সংরক্ষণের উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। যা শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে বলে যোগ করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

 

 

 

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top