Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জ্বিলক্বদ ১৪৪১

বদর উদ্দিন কামরান শেখ মকলুর প্রিয় নেতা

 প্রকাশিত: ১৯, জুন - ২০২০ - ০২:৩৪:০১ AM

কূল ডেস্ক: সারা দেশের মানুষের কাছে ‘সিলেটের কামরান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে সিলেটের কামরান নিয়ে আলোচনা হতো। ওই আলোচনায় কামরান ভাইয়ের স্থান হতো অতি আপনজন হিসেবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিদেশের মাটিতে আমরা যারা বসবাস করি; তাদের সকলের কাছেই কামরান ভাই অত্যন্ত প্রিয় একটি মুখ। এই প্রিয় মুখ চলে গেছেন চিরবিদায় নিয়ে। তিনদিন কেটে গেছে। কিন্তু এখনো অবিশ্বাস্য।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে ওইভাবে উপস্থাপন করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি শেখ মকলু।

বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সম্পর্কে বলছিলেন অনেকটা কাতর সুরে। বললেন একজন অভিভাবক হারালাম।

আওয়ামী লীগের এই নেতা শেখ মকলু জানান, প্রায় ৩২ বছর ধরে সাবেক মেয়র কামরানের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। ছিলে পারিবারিক সম্পর্ক। ১৯৮৭ শেখ মকলু সিলেটের ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপীঠ মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হন। সেই থেকে সম্পর্ক সাবেক মেয়র কামরানের সঙ্গে। সেসময় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ এই ৩২ বছরে সাবেক মেয়র কামরানকে যেভাবে দেখেছেন, তা নিয়ে বলতে গেলে কয়েকদিন লেগে যাবে বলে জানালেন শেখ মকলু।

সিলেটবাসির প্রিয় নেতা কামরান ছিলেন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি প্রাণ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত একজন কর্মী। সিলেটের আওয়ামী লীগর নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল ছিলেন তিনি। একজন রিকশা ড্রাইভার বা দিনমজুরও তাঁর কাছে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসেননি। সকলকেই অতি আপনজনের ন্যায় আন্তরিকতার সাথে কাছে টেনে নিতেন। মুখে লেগে থাকতো হাসি। কথা বলতেন মিষ্টি করে। দুখি মানুষ তাঁর কাছে গেলে শান্তনা পেতেন শতভাগ। যার জন্যে তিনি সিলেটের গন্ডি পেরিয়ে সারাদেশে সিলেটের কামরান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সাবেক মেয়র কামরান সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে শেখ মকলু জানান, ২০০৪ সালে চারদলীয় সরকার ক্ষমতায়। সেসময় তিনি আইন পেশায় জড়িত ছিলেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্যসহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীসহ শেখ মকলুর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। কয়েকদিন পর তিনি জামিনে মুক্তিলাভ করেন। শেখ মকলুকে কারা ফটক থেকে মিছিলসহ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শহীদ মিনারে শেখ মকলুকে দেয়া হয় সংবর্ধনা। ২০০৪ সালের মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বক্তব্য রাখেন।

শেখ মকলু জানান, কামরান ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের পরিবারের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই শেখ মকলু বিয়ে করেন। ওই বিয়ে ও ওয়ালিমা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র কামরান। ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট নগরীর তালতলাস্থ গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলা হয়। এতে অল্পের জন্যে রক্ষা পেয়ে যান কামরান ভাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেকেই আহত হন। প্রিয় ইব্রাহিম ভাই মারা যান। এডভোকে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও শেখ মকলুসহ আওয়ামী লীগের ২০ নেতা ভর্তি ছিলেন ওসমানী হাসপাতালে। ১২ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেনেড হামলায় আহতদের দেখার জন্যে ওসমানী হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

কামরান ভাইকে নিয়ে অনেক অনেক স্মৃতি রয়েছে জানিয়ে শেখ মকলু বলেন, ২০১৭ সালের ২২ জুন তিনি আমেরিকায় পাড়ি জমান। এর তিনদিন আগে আদালত প্রাঙ্গণে এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের চেম্বারে গিয়েছিলেন কামরান ভাই। সেখানে তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন শেখ মকলু। ২২ জুন আমেরিকায় চলে যাবেন- এই কথা জানান সাবেক মেয়র কামরানকে। সেদিন কামরান ভাই শেখ মকলুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ভালো থেকো। তোমার জন্যে দোয়া রইলো। সেখানে গিয়ে সংগঠনের জন্যে কাজ করিও। যা ছিল শেষ দেখা। কামরান ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলেই জিজ্ঞেস করতেন ভাই মকলু কেমন আছো। আন্তরিকতার সাথে কাছে ডেকে নিতেন। আর কোনোদিন কামরান ভাইয়ের মুখ থেকে শুনব না ‘ভাই মকলু কেমন আছ‘। এখন আমি দোয়া করি কামরান ভাই যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top