Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জ্বিলক্বদ ১৪৪১

শূন্য থেকে মহাশূন্যে উঠার জ্বলন্ত উদাহরণ..

-অ্যাডভোকেট সুয়েব আহমদ

 প্রকাশিত: ০২, জুন - ২০২০ - ০৫:০১:৩৫ PM

Image may contain: 2 people, including Suyeb Ahmed, text
 
 
এপিজে আব্দুল কালামের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় তাঁর ‘Wings of Fire’ বইয়ের মধ্য দিয়ে। একজন মানুষ কীভাবে শূন্য থেকে মহাশূন্যে উঠতে পারে, তার সবচেয়ে বড় এক দৃষ্টান্ত হলো এ পি জে আব্দুল কালাম। নাদের মাঝির ছেলে এ পি জে আবদুল কালাম ভারতের রাষ্ট্রপতি, ভাবাই যায় না। জীবনে বারবার হেরে গিয়ে জিতেছেন। মনোবল হারাননি শিশুর মতো কোমল হৃদয়ের অধিকারী এই অসাম্প্রদায়িক মানুষটি। খেয়ে-না খেয়ে বেড়ে ওঠা তামিলনাড়ুর সেই এলোমেলো চুলের কালো মানুষটি কালোমানিকে পরিণত হয়েছিলেন। এ পি জে ছিলেন দারুণ প্রতিভাবান এক বাগ্মী। তাঁর বাকচাতুর্য মনকে ভরিয়ে দেয়, হৃদয়কে করে ইস্পাতসদৃশ, আকুঞ্জন দৃষ্টিকে করে প্রসারিত। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতেন তরুণদের জাগিয়ে তুলতে, তাদের ভেতরের জীবটি লালন-পালন করার জন্য। ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় সাধারণ পোশাকের মোড়কে থাকা এই অসাধারণ মানুষটি। সুযোগ পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি হয়ে ভারতের দায়ভার নেওয়ার। সেবা দিয়ে গেছেন সুচারুভাবে। দুর্নীতির কালো বিড়াল টলাতে পারেনি পাহাড়সম ব্যক্তিত্বের এই মহামানবকে। শিশুসুলভ এই মানুষটি অকপটে মিশে গেছেন সাধারণের ভেতর। কোট-টাই পরা শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর। পোশাকে ছিলেন সাধারণ, কিন্তু ব্যক্তিত্বে ছিলেন অসাধারণ। ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি এ পি জে যেদিন রাষ্ট্রপতি ভবন ছেড়েছিলেন, সেদিন সেই জিনিসগুলোই তাঁর সঙ্গে ছিল, যেগুলো তিনি ভবনে প্রবেশের সময় সঙ্গে নিয়েছিলেন। তিনি অনুকরণীয় এবং দারুণভাবে অনুসরণীয়।
এপিজে আব্দুল কালাম ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমরা জানতে পেরেছিলাম যেদিন উনি প্রস্থান করেছিলেন। প্রিন্ট মিডিয়া কিংবা অনলাইন নিউজপেপারগুলো তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছুই প্রচার করেনি। অথচ ভারতীয় কোন নায়িকা বাংলাদেশে আসবেন বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে চতুর্দিকে হৈচৈ সৃষ্টি করে ফেলেন। আসলে পৃথিবীতে ভালো যত কম হয় ততই ভালো, তা না হলে সে ভিড়ের ঠেলায় হয়ে যেত মাঝারি।
মিসাইল ম্যান এ পি জে ছিলেন দারুণ সাদাসিধে টাইপের মানুষ। কাজের ভারে বিয়ে করার সময় মেলাতে পারেননি। দেশের জন্য অকাতরে শুধু নিজেকে সঁপে দিয়েছেন কাজই তাঁকে অমর করে রেখেছে। এ পি জে দারুণ আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। যে রাজ্যে তিনি পদচারণা করেছেন, তা সুশোভিত কর তাৎপর্যমণ্ডিত করতে তিনি তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেন নিজের চিন্তাচেতনার কথা। তরুণদের মনে দারুণভাবে দাগ কেটেছিলেন আধুনিক বিজ্ঞানের এই মহীরুহ। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তরুণ-তরুণীদের মনকে আন্দোলিত করতে ছুটে যেতেন। তিনি স্বপ্ন দেখাতেন তরুণদের। তাঁর ‘Wings of Fire’, ‘Turning Points’ কিংবা ‘Ignited Minds’ যুবসমাজের মধ্যে সহসা যে শক্তি জুগিয়েছে, তা আসলে ঈর্ষণীয়। অথচ কে জানত, নাদের মাঝির ছেলে ভারতের রাষ্ট্রপতি হবেন! কত দিন খেয়ে-না খেয়ে পড়াশোনা করেছেন। দুঃখকে তিনি জয় করেছেন তাঁর সৎ চেষ্টা দ্বারা। হারতে হারতে জিতে যাওয়া এই মানুষটি একসময় চেয়েছিলেন পাইলট হবেন। কিন্তু হয়েছিলেন পরমাণুবিজ্ঞানী। ভারত পারমাণবিক ক্ষেত্র সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করেছে যে ব্যক্তিগুলোর হাত ধরে, তার মধ্যে এ পি জের ভূমিকা সর্বাগ্রে বিদিত। এ পি জে সম্ভবত একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের সেরা আবিষ্কার! পেছনে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাতেন তিনি। আধুনিক ভারতের রূপকার এ পি জে মনে করতেন, পৃথিবীর সব মানুষ সমান। মিডিয়ায় বিতর্কিত কমেন্ট করে কখনো পত্রিকার শিরোনাম হননি। তাঁর ‘Wings of Fire’ অন্যতম বেস্ট সেলার। ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এ বইটি। তাঁর লেখা জ্ঞানের এমন আধার, যার ভেতরে ধার ও ভার দুটিই আছে। আসলে যে পারে, সে পারে। একাধারে তিনি একজন বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রপতি, বক্তা, লেখক সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ। জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তবে সমাজকে দূষিত করে নয়। তাঁর জীবনের সবচেয়ে সেরা পুরস্কার মানুষের ভালোবাসা। তাঁর কর্মময় জীবনের জন্য তিনি বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। এ পি জের মতো ব্যক্তিত্বদের আজ বড় বেশী দরকার।১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবরে ভারতের রামেশওয়ারেমে জন্ম নেওয়া ভারতের সাবেক খ্যাতিমান রাষ্ট্রপতি ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই ভারতের শিলংয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।এই নিরহংকার, সদা হাস্যোজ্জ্বল, সহজ-সরল মানুষটি অনেকের জীবনের সেরা আইকন হিসেবে বেচে থাকবেন কালের পর মহাকাল পর্যন্ত।এই কীর্তিমান মহাপুরুষ আবুল পাকির জয়নুলআবেদিন আব্দুল কালামের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top