Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ৯ জ্বিলক্বদ ১৪৪১

রবিঠাকুর বাঙালির মানসপটে সদাই বিরাজমান

-এড. সুয়েব আহমদ

 প্রকাশিত: ০৮, মে - ২০২০ - ০৫:২৩:৩৪ PM

Image may contain: 1 person
 
 
আজ পঁচিশে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী। করোনা মহামারির অভিঘাতে পৃথিবী আজ ধুঁকছে। এই সময়ে কবিগুরুর গান, কবিতা, সাহিত্য মানুষের মনে সাহস জোগায়, মনকে শান্ত করে।
রবিঠাকুর বাঙলির মানসপটে সদাই বিরাজমান। বাঙালির জীবনের যত ভাবনা, বৈচিত্র্য আছে; তার পুরোটাই লেখনী, সুর আর কাব্যে তুলে ধরেছেন কবিগুরু। তার সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীত, জীবনদর্শন, মানবতা, ভাবনা- সবকিছুই সত্যিকারের বাঙালি হতে অনুপ্রেরণা দেয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের (১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ) আজকের দিনে। মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা বিখ্যাত জমিদার ও ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৭৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাতৃবিয়োগ ঘটে।
পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশ ভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অবস্থান করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে। শৈশবে তিনি কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে ইংল্যান্ড যান। সেখানে ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন তিনি। পরের বছর ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়েই দেশে ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথ। ১৮৮৩ সালে ভবতারিণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী।
এর মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তি নিকেতনে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।
নোবেল বিজয়ী এং মানবীয় মূল্যবোধের এই কবি সারাজীবন প্রকৃতি ও প্রেমের গান গেয়ে বাঙালীকে উজ্জীবিত করেছেন।আমাদের জাতীয় সংগীতের রচিয়তা এই কবির অনেক দেশপ্রেমের কবিতা ও গান ১৯০৫ সালের ব্ঙ্গভঙ্গ নিরোধে এবং ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্বে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করলে তা শুনে আমাদের বীরমুক্তিযোদ্বারা দেশ স্বাধীনের স্বপ্নে মজে উঠতেন।
এমনকি আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক ব্ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনেক বক্তৃতায় কবিগুরুর কবিতা উল্লেখ করতেন।এ থেকেই বুঝা যায় কবিগুরু অনেক উচুমানের দেশপ্রেমিক এবং অসাম্প্রদায়িক কবি ছিলেন।
আসলে খন্ডিত আকারে কবিগুরুকে নিয়ে আলোচনা করলে মহান কবির প্রতি অবিচার করা হবে।এমন কোন বিষয় নেই যে কবিগুরু তা নিয়ে ভাবেন নাই।সব বিষয়েই কবিগুরুর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল।
পৃথিবীর অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকগন কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বৃটেনের সেরা কবি সেক্সপিয়ার কে নিয়ে একইসাথে গবেষনা করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেই সুমহান স্থানে রেখেছেন যা বাঙালী হিসেবে আমাদের গর্বের বিষয়।
পরিশেষে বলতে চাই সকল সংকীর্ণতার উর্ধেব উঠে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে শুধু শিক্ষিত, মধ্যবিত্তের কবি না ভেবে সাধারণ ভাব বোধের কবি চিন্তা করাই হোক আজকের দিনের প্রত্যয়।জন্মদিনে কবিগুরুর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী।
 
লেখক : আইনজীবি, অধ্যাপক, এডিশনাল পিপি।
Top