A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: fopen(/var/lib/php/sessions/ci_sessionsl1hjt5c54st742iuip17sdmpsgsi1hg): failed to open stream: No space left on device

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 172

Backtrace:

File: /var/www/weeklykushiararkul.com/application/controllers/Home.php
Line: 12
Function: __construct

File: /var/www/weeklykushiararkul.com/index.php
Line: 317
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_start(): Failed to read session data: user (path: /var/lib/php/sessions)

Filename: Session/Session.php

Line Number: 143

Backtrace:

File: /var/www/weeklykushiararkul.com/application/controllers/Home.php
Line: 12
Function: __construct

File: /var/www/weeklykushiararkul.com/index.php
Line: 317
Function: require_once

আমাদের দেশে টাকা ছাপানোর পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি || Kushiararkul | কুশিয়ারার কূল

Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭, ৩ সফর​ ১৪৪২

আমাদের দেশে টাকা ছাপানোর পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি

-এড. সোয়েব আহমদ

 প্রকাশিত: ০৭, মে - ২০২০ - ০৪:১৫:৫১ PM

 
এড. সোয়েব আহমদ.......
করোনা ভাইরাসে টালমাটাল বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের অর্থনীতি। তারপরও অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই মুহূর্তে নতুন মুদ্রা ছাপিয়ে সরকারকে অর্থ জোগান দিচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রান্তিক পর্যায়ের দরিদ্র মানুষের হাতে টাকার সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মতো দেশগুলোকেও বেশি করে টাকা ছাপানোর পরামর্শ দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নতুন টাকা ছাপানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেন নি বাংলাদেশের অনেক অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক।
আমাদের মত অর্থনীতি শব্দের সাথে সামান্যতম পরিচিত ব্যক্তিদের অভিমত থেকে বলা যায় যে,এখনো বাংলাদেশে টাকা ছাপানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।নতুন টাকা ছাপানো দরকার হয় তখন, যখন অন্য সব রকম ব্যবস্থা শেষ হয়ে যায়। আমরা কিছু বিদেশি সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, বড় কয়েকটি প্রকল্প এডিপি থেকে বাদ দিয়ে সেই টাকাটা ফিরিয়ে আনা হবে। এসব থেকে টাকা এনেও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবেই নতুন টাকা ছাপানোর আলোচনা হতে পারে।নতুন টাকা ছাপানোটা ভালো ব্যবস্থাপনা না। এটা হলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে। কোনো জিনিসপত্রের দাম ঠিক থাকবে না এবং এতে করে গরিবরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি।
মূলত চাহিদা যখন তীব্র হয় কিন্তু সেই তুলনায় অর্থের জোগান কম থাকে; তখনই টাকা ছাপিয়ে ভারসাম্য তৈরি করে সরকার। তবে টাকা ছাপানো অর্থ শুধু কাগজে নোটের সরবরাহ বাড়ানোই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের যে ৪টি অ্যাকাউন্ট আছে, সেখান থেকে অর্থ নেয়াকেও টাকা ছাপানো বলে। অ্যাকাউন্টগুলো হচ্ছে- ওভার ড্রাফট, ব্লুক ওভারড্রাফট, ওয়েজ এন্ড মিনজ বা ডব্লিউএএম এবং ট্রেজারি বন্ড। সংকটের সময় অ্যাকাউন্টগুলো থেকে দ্রুত অর্থ তুলে মানুষের চাহিদা পূরণ করা হয়, যা টাকা ছাপানো নামে পরিচিত। তবে টাকা ছাপানোর বিপদ অন্য জায়গায়। বাজারে যদি পণ্য সরবরাহ সীমিত থাকে এবং মানুষের হাতে অর্থ বেশি চলে যায় তখন মূল্যস্ফীতি হয়। টাকা থাকলেও পণ্য পাওয়া যায় না। পৃথিবীর অনেক দেশেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে টাকা থাকা সত্ত্বেও পণ্য পাওয়া যায় না।
করোনার এই দুর্যোগে একটি মহল বাংলাদেশে টাকা ছাপিয়ে দরিদ্র মানুষদের কাছে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ধুম্রজাল তৈরি করতে ব্যস্ত রয়েছে। করোনার সময় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলো টাকা ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা এখনো সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর কারণ উন্নত দেশগুলোয় ব্যাংকগুলোর জন্য নীতি-নির্ধারণী সুদহার শূন্য বা শূন্যের কাছাকাছি। ওই সব দেশের নীতি ছাড়ের কোনো সুযোগ না থাকায় তারা টাকা ছাপাতে বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশে নীতি ছাড় দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব।
এছাড়া উন্নত দেশগুলোর নীতি সমর্থন দেয়ার সুযোগ নেই। তাই তারা সরাসরি টাকা ছাপাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সমর্থন দেয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ সবটুকু ব্যবহার করার পর টাকা ছাপানোর প্রশ্ন আসবে।
তবে এই মুহূর্তে টাকা না ছাপানোর পক্ষে থাকা আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যক্তিদের মতে টাকা ছাপানোর এখনো সময় আসেনি। এখন সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন রয়েছে, মানুষের চাহিদা নেই। এ সময় মানুষের হাতে টাকা দিলে মূল্যস্ফীতি হবে। এখন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য আনাই উত্তম। সুতরাং টাকা ছাপানোর আগে অনেক চিন্তা-ভাবনা করা দরকার।
তাছাড়া বাজারে তারল্য বাড়ানোর চেষ্টা সরকার করছে। প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে নীতি ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থ সংকট কাটাতে টাকা না ছাপিয়েও বিকল্প অনেক ব্যবস্থা রয়েছে। উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত রাখাসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে টাকার সরবরাহ বাড়ানো যায়।
পরিশেষে বলা যায়, সরকারের যে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খরচ আছে, মেগা সহ ছোট- বড় বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেটে যে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো আছে- সেগুলোকে অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল করা দরকার। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ নেয়া যায়। তৃতীয় উপায় হিসেবে আছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ।এ সব পদক্ষেপ গ্রহন করলে আশা করা যায় সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সফল হবে।
আর তখনোই দ্য ইকোনোমিস্ট পত্রিকা করোনা পরবর্তী বিশ্বে বাংলাদেশ ৯ম অর্থনীতির দেশ হবে বলে যে ভবিষৎবাণী করেছে তা আলোর মুখ দেখতে পারে নচেৎ সব চিন্তা ভাবনা অমাবস্যার কালো চাদরে ডাকা পড়তে পারে।
 
লেখক : আইনজীবি, অধ্যাপক ও এডিশনাল পিপি।

এ বিভাগের​ আরও খবর


Top