Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জ্বিলক্বদ ১৪৪১

আগে তো নিজে ভালো হই : আ.হ ইমন শাহ

 প্রকাশিত: ১৪, এপ্রিল - ২০২০ - ১০:০৭:৫৪ PM

আমি নির্দিষ্ট জায়গা থাকা স্বত্তেও যেখানে সেখানে থুথু ফেলবো। রাস্তায় ময়লা ফেলবো। গাড়ি চালানোর সঠিক নিয়ম মানবো না। মোটরসাইকেল চালাতে হেলমেট পরবো না। আমি কর ফাঁকি দিবো। অবৈধ সংযোগ দিয়ে গ্যাস ব্যবহার করবো। প্রকাশ্যে ধূমপান করবো। ক্ষমতার অপব্যবহার করবো। কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করবো না।
 
আমি পাবলিক ঠকাবো। সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়াবো। গরিবের হক্ব মেরে খাবো। চাল চুরি করবো। সব কাজে দুই নাম্বারী করবো। সরকারি কাজে চৌদ্দ নাম্বার জিনিস ব্যবহার করবো। আমি বরাবর দেশের সব আইনের উল্টোদিকে বসবাস করবো। আইন অমান্য করে ধরা পড়লে সেক্ষেত্রে ঘুষ প্রদান করে মুক্ত হবো। আইনের প্রতি আমার নূন্যতম সম্মানবোধটুকু নেই।
 
আমার কাছে নিয়ম, নীতি, শৃঙ্খলা, আদর্শ বলতে কিছু নেই। এরপরও আমি দাবি করি আমি দেশপ্রেমিক। কিন্তু কেমনে? কিভাবে সম্ভব এটা? দেশ, সমাজের সবকিছুর বিপরীত দিকে অবস্থান করেও কিভাবে, কোন মুখে এমন দাবি করতে পারি? আরে মশাই মুখ-টুখ, লজ্জা শরম এগুলো আবার কী? এগুলো আমার ভেতরে অত কাজ-টাজ করে না। ওহ আচ্ছা! তাহলে সবকিছুই ফাঁকা আওয়াজ? হু!
 
এভাবেই প্রতিটা ক্ষেত্রে দেশ, সরকারের সকল নিয়ম, আইন শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে যাই আমি, আপনি আমরা সবাই। তারপরও কথায় কথায় সরকারের এক হাত নেই। উঠতে বসতে সরকারের চৌদ্ধ গোষ্ঠী উদ্ধার করি। সরকার এই করলো না ওই করলো না। এটা দিলো, ওটা দিলো না। এমন বুলি জপ করা দেশের মানুষের নিত্যকার ঘটনা। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলছে দেশ, আমি, আমরা।
 
সে যাই হোক পেছনের কথা থাক। আপাদত একটু বর্তমানে আসি। বর্তমানে পৃথিবীতে আঘাত হেনেছে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস নামক ভয়ানক এক গজব। মরণব্যাধি এই গজবে সৃষ্টি হয়েছে মহামারির। আর এতে শুধু দেশ নয় পুরো বিশ্বই পার করছে পাথর কঠিন দুঃসহ এক সময়। ছোট বড় প্রতিটা দেশই হিমশিম খাচ্ছে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে। কারো কোনো ক্ষমতাই কাজে আসছে না। কেউই শোনাতে পারছে না আশার বাণী। সর্বত্র চলছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন-ই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি।
 
এই মহামারি থেকে রেহাই পায়নি আপনার আমার দেশও। সংক্রমণ ঠেকাতে সামর্থ্যানুযায়ী সবরকম চেষ্টা করছে সরকার। তবুও রোখা যাচ্ছে না এর পাদুর্ভাব। প্রতিদিন-ই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকেই যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন।
 
অবশ্য পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার জন্য আপনি, আমি, আমরাই দায়ী। আমাদের অসচেতনতা, আমাদের উদাসীনতাই কাল হয়েছে, হচ্ছে। নির্দেশনানুযায়ী না চলে, নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু সরকারের গায়েই হুল ফুটিয়ে যাচ্ছি।
 
সরকার যা-ই করে তাতেই বিপত্তি। সরকার লকডাউন করলে বলি কেনো করলো, না করলে বলি করে না কেনো? মসজিদে নামাজে যেতে আপত্তি ছিল না কিন্তু তখন বললাম মসজিদে সমাগম বন্ধ করে না কেনো? তারপর যখন সরকার মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা সীমিত করেছে তাতেই আবার বলছি এটা কোনো কথা? সবখানে যাওন যায়, ভীড় দেখা যায় আর মসজিদের বেলায় নিষেধ। এককথায় সরকারের যাওনের জায়গা নাই যেদিকেই যায়, যা করে তাতেই সমস্যা।
 
মসজিদে মুসল্লি সংখ্যা সীমিত করাতে যে ছেলেটিকে পাঁচ ওয়াক্তের এক ওয়াক্তও নামাজ পড়তে দেখি না সেও ফেইসবুকে সরকারের চৌদ্দ থেকে পনেরো গোষ্ঠী উদ্ধার করে। আর এ ভাই মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা সীমিত করাতে লাভটা সরকারের না লাভটা আমাদেরই। আমাদের ভালোর তো জন্যই সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কিন্তু আমরা তা না মেনে সরকারের সমালোচনাতেই ব্যস্ত সময় পার করছি।
 
যারা বলে ব্যাংকে, বাজারে ভীড় শুধু নামাজেই সমস্যা তাদের বলি; ভাই রে সরকার মসজিদে মুসল্লি সংখ্যা সীমিত যেমন করেছে ঠিক তেমনি অন্যান্য ক্ষেত্রেও ভীড় এড়াতে না না পদক্ষেপ নিয়েছে। সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। অপ্রয়োজনে বাহিরে যেতে নিষেধ করেছে৷ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছে। তার কোনোটাই কী আমরা মানছি? না মানছি না। যেমন খুশি তেমন চলছি। তাতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আবার তারও সমালোচনা করছি। আমরা আসলে সমালোচনা ছাড়া কিছুই করতে পারি না। যদি পারতাম তাহলে নির্দেশনা মেনে চলারই চেষ্টা করতাম।
 
সিলেটে করোনা টেস্টিং যন্ত্রপাতি ছিলো না আমরা সমালোচনা শুরু করলাম তারপর তাও আসলো। এরপর টেস্ট হচ্ছে প্রতিটা টেস্টই নেগেটিভ আসছে কিন্তু তাতেও সমালোচনা। কীট ভালো না, যন্ত্রপাতি ভালো না ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর হয়তো নতুন করে যাদের টেস্ট করা হবে রিপোর্ট পজেটিভ আসবে তখনও শুরু হবে আবার সমালোচনা।
 
সমালোচনা, সমালোচনা আমরা শুধু সমালোচনাই পারি। আর কিছু যদি পারতাম তাহলে অমুক তমুকের দিকে না তাকিয়ে অবশ্যই নিজের অবস্থান থেকে নিজের কাজটুকু নিজে করতাম। একবার কী ভেবে দেখেছেন প্রত্যেকে নিজের কাজটা নিজে করলে, দায়িত্ব পালন করলে আর কোনো সমস্যাই থাকতো না।
 
সরকার বিভিন্ন সময় আইন তৈরী করে নানান পদক্ষেপ নেয়। আর এগুলো অবশ্যই রাষ্ট্রের নাগরিকদের ভালোর জন্যই করে৷ সরকার জনগণের বাহিরে নয়। রাষ্ট্রীয় যেকোনো বিপদে সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সফলতা আনতে। আলোর পথ দেখাতে। কিন্তু জনগণ অসহযোগিতা করলে সরকারের পক্ষে সেই বিপদ মোকাবেলা করা অসম্ভব।
 
তাই উঠতে বসতে নিয়মকানুন, আইন না মেনে সরকারের সমালোচনা না করে আগে নিজে ভালো হোন, সচেতন হোন। 'কথায় আছে না- নিজে ভালো তো জগত ভালো'। নিজের উপর অর্পিত নাগরিক দায়িত্ব, কর্তব্য যথাযতভাবে পালন করুন। যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকারকে সহযোগিতা করুন। আর এতে করে সবধরণের বিপদই মোকালবেলা করা সম্ভব। তাতেই এগিয়ে যাবে দেশ।

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top