Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সচেতনতা আর আইন প্রয়োগের নামে হচ্ছেটা কী! : আ.হ ইমন শাহ্

 প্রকাশিত: ২৯, মার্চ - ২০২০ - ১২:১০:০১ AM

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলো দেশে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পৃথিবী এখন করোনা আতংকে কাঁপছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও আজ এই ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যর্থ! কোনও আশার বাণী শোনাতে পারছে না কেউ। যতই সময় গড়াচ্ছে এই মহামারী করোনায় দেশে দেশে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।

অর্থনীতিতে বিরূপ ভাব ফেলতে পারে এমন সবগুলো বিষয়ের সঙ্গে করোনা সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। শিল্প উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, ট্যুরিজম, তেল উৎপাদন, শেয়ারবাজার ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে করোনা মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিনে করোনার যাত্রা শুরু হলেও ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে এটি ইউরোপ, আমেরিকাসহ সকল মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কাজেই অর্থনীতিতে যে প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে সেটি শুরু মাত্র। এর প্রভাব কোন দেশে, কিভাবে, কতটা পড়বে তা অনুমান করা সহজসাধ্য নয়।

এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাসের পাদুর্ভাব রুখতে আমাদের দেশেও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্য ভাষণে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন এবং দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা পোহাতে হবে নিম্নআয়ের দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষদের। অবশ্য সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ব্যাপারেও ঘোষণা দিয়েছেন। আমরাও বঙ্গবন্ধু কন্যা'র উপর শতভাগ আস্থাশীল। আমাদের বিশ্বাস তিনি এদেশের গরিব দুখি সাধারণ মানুষকে না খেয়ে মরতে দেবেন না। সবাইকে সাথে নিয়ে দক্ষতার সাথে এই দুর্যোগ মুহূর্ত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন তিনি।

ইতোমধ্যে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। সচেতনামূলক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি খাবারসহ মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করছেন অনেকেই। এর মধ্যে একটি বিষয় লক্ষণীয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসকরাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কাজ করছেন অন্যান্য সংস্থাও। এমন মানবিকতা, মানবিক কাজ এই বিপদের দিনে জাতির জন্য প্রশান্তিরই বটে।

গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষণা দিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জরুরি সেবার বাইরে অন্যান্য সেবা বন্ধ রাখার সরকারি ঘোষণা রয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে জরুরি প্রয়োজন (খাদ্যদ্রব্য, ঔষধ কেনা, চিকিৎসা, মৃতদেহ সৎকার ইত্যাদি) ছাড়া কোনওভাবেই বাড়ির বাইরে না যেতে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

যদিও এরপর করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনগণকে ঘরে থাকার সরকারের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের দ্বারা মানুষকে লাঠিপেটা ও হেনস্থার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত। যা মানষের মধ্যে আতংকের পাশাপাশি জন্ম দিয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনার।

দোকানপাট বন্ধ। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনও খুবই সীমিত আকারে চলছে ছোট ছোট না যানবাহন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বাহিরে বের হচ্ছে না। তবে আইন মেনে হোক আর সেনাবাহিনির ভয়ে হোক এতে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তরা প্রয়োজনীয় খাবারদাবার নিয়ে ঘরের ভেতর থাকার চেষ্টা করছেন। তবে সমস্যায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও রাস্তার ভাসমান মানুষেরা। বিশেষ করে শ্রমজীবী রিকশা চালকসহ দিনমজুরেরা। এদের পুঁজি বলতে কিছু নাই রোজ নেয় রোজ খায়। রিকশা, ভ্যানের চাকা ঘুরলেই এদের নিজের এবং পরিবারের মুখে খাবার উঠবে। শহরে জনকোলাহল না থাকলেও এরা রিকশা নিয়ে কিংবা অনেকেই বেরুচ্ছেন। বের হওয়ার পর পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন, খাচ্ছেন নিয়মিত। মার খাওয়ার অনেক বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ ও ছবি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। এর মধ্যে দেখলাম ডিউটি থেকে ফেরার পথে এক ডাক্তার হেনস্থার শিকার হয়েছেন পুলিশের হাতে ।

বিভিন্ন উপজেলায় অফিসার ইনচার্জদের নের্তৃত্বে পুলিশকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে দেখা গেলেও ঢাকাসহ জেলা শহরগুলোতে দেখছি ভিন্ন চিত্র। রাস্তায় কে কী জন্য বের হয়েছেন জানার প্রয়োজন মনে না করে যাকেই সামনে পাচ্ছেন সমানে পিটাচ্ছেন। কয়দিন ধরে অনেকেই ফেইসবুকে একটি কথা প্রচার করতে দেখলাম "পুলিশ টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" ভালো কথা তারা ব্যাটিং নিয়েছেন চার-ছয় মারবেন। মারছেনও। কিন্তু সেটা অন্তত প্রতিপক্ষের সাথে কথা বলে তারপর খারাপ বল পেলে তবেই মারুন না। এভাবে সব বলেই চার ছয় মারার লাইসেন্স তো দেয়া হয়নি আপনাদেরকে। এভাবে অসহায় শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষকে পেটাতে পারেন না আপনারা। কারণ জানতে চান, সঠিক কারণ ব্যাখা করতে না পারলে প্রয়োজনে জেল, জরিমানা করুন তবুও দয়া করে সাধারণ মানুষকে এভাবে পিটাবেন না। এভাবে মানুষ পেটানোর অধিকার রাষ্ট্র আপনি এবং আপনাকে দেয়নি।
 
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের দ্বারা মানুষকে লাঠিপেটা ও হেনস্তার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ জনগণের সাথে বিনয়ী, সহিষ্ণু ও পেশাদার আচরণ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. জাবেদ পাটোয়ারী।  এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন পুলিশ প্রধান। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইজিপি-র নির্দেশে বলা হয়েছে, জনজীবন সচল রাখতে চিকিৎসা, ওষুধ, নিত্যপণ্য, খাদ্যদ্রব্য, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং ও মোবাইল ফোনসহ আবশ্যক সব জরুরি জরুরী সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও যানবাহনের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করুন। দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ জনগণের সঙ্গে বিনয়ী, সহিষ্ণু ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখুন।

এদিকে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যশোরের মনিরামপুরে মাস্ক না পরায় তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান এই সাজা দেন। কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে ছবিও তুলে রেখেছেন তিনি। তিন বৃদ্ধকে কান ধরানো এবং তার ছবি তোলার মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা সামলোচনার ঝড় ওঠে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লোকসমাগম না করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মনিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা বাজারে অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন প্রথমে দুই বৃদ্ধ। এর মধ্যে একজন বাইসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। অন্যজন রাস্তার পাশে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছিলেন। কিন্তু তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। এ সময় পুলিশ ওই দুই বৃদ্ধকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইয়েমা হাসান শাস্তি হিসেবে তাদেরকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। শুধু তাই নয়, এ সময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিজেই তার মোবাইল ফোনে এ চিত্র ধারণ করেন। এ ছাড়াও পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত আরও একজন ভ্যান চলককে একইভাবে কান ধারিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। রাতে এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার শুরু হয়। সমালোচনার মুখেই সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে শনিবার। এখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব।

এনিয়ে আপাদত একটু ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিতে চাই। সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আমলাদের নিয়ে ২৬ শে মার্চ ১৯৭৫ সালে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন 'সরকারী কর্মচারীদের বলি, মনে রেখো, এটা স্বাধীন দেশ। এটা ব্রিটিশের কলোনী নয়। পাকিস্তানের কলোনী নয়। যে লোককে দেখবে, তার চেহারাটা তোমার বাবার মত, তোমার ভাইয়ের মত। ওরই পরিশ্রমের পয়সায় তুমি মাইনে পাও। ওরাই সম্মান বেশী পাবে। কারণ, ওরা নিজেরা কামাই করে খায়।”

"আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় ঐ গরিব কৃষক। আপনার মাইনে দেয় ঐ গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়। আমরা গাড়ি চড়ি ঐ টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ইজ্জত করে কথা বলুন। ওরাই মালিক। ওদের দ্বারাই আপনার সংসার চলে।" তাই বলবো আপনারা যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী দয়া করে দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগের আগে দয়া করে ভাষণের কথাগুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন।

মাস্ক না পরার কারণে বৃদ্ধদের কান ধরানোয় সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) সাইয়েমা হাসান অন্যায় করেছেন বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেছেন, এসিল্যান্ড সাইয়েমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমলারা হচ্ছেন জনগণের সেবক। জনগণ আমলাদের কোনো কাজে যদি মনে কষ্ট পান, তা মেনে নেয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেছেন ‘করোনার প্রভাব দূর করতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এই সচেতনতার জন্যই পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসনকে মাঠে নামানো হয়েছে। কাউকে জুলুম করার জন্য নয়। করোনা নিয়ে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। এর মধ্যে যদি বাড়তি আতঙ্ক সৃষ্টিতে কেউ ভূমিকা রাখে, সে অন্যায় করছে।’ এসিল্যন্ড সাইয়েমা যা করেছেন, তা অন্যায়। এজন্য তার শাস্তির বিধান রয়েছে। মাস্ক না পরার অপরাধে বৃদ্ধদের কান ধরনোর ঘটনা খুবই অশোভন মনে হয়েছে। তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভাগীয় সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

সবকিছুর পর স্বস্তির বিষয় হচ্ছে এই যে, মাস্ক ব্যবহার না করায় এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের হাতে লাঞ্ছিত বৃদ্ধদের বাড়িতে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে হাজির হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান উল্লাহ শরিফী। এ সময় তাদেরকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তাঁদের তিনজনকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তাদের হাত ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছি। আমি তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতাসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।

এমন মহামারীতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে অযথা কেউ বাড়ির বাইরে ঘুরবেন  বলে মনে করি না। যারা রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের কাছে আগে বাইরে আসার কারণ জানতে চাওয়া হোক। কেউ যদি সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারে তাকে চূড়ান্তভাবে সর্তক করে দিন। তাতেও কাজ না হলে প্রয়োজনে জেল জরিমানা করুন। তবুও অতি উৎসাহী পিতার বয়সীদের অসম্মান আর শ্রমজীবী মানুষদের এভাবে পিটানো মোটেই কাম্য নয়।

আপনারা যারা অতি উৎসাহী হয়ে কারণ না জেনে মানুষকে দেখামাত্রই পেটানো  শুরু করছেন আপনাদের মনে রাখা উচিত করোনার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে শ্রমজীবী মানুষ ছাড়া কিছু মানুষ হয়তো ঔষধ, চাল, ডাল, বাচ্চার খাবার আনতে বের হয়েছেন। আবার কেউ হয়তো মৃত আপনজনের দাফনের জন্য কাফন আনতে বের হয়েছেন। এছাড়াও অনেকে সিভিলে চাকরি করেন অন্য পেশার লোকজন সাংবাদিক, ডাক্তার, ব্যাংকারসহ নানা পেশার মানুষ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বের হতে পারেন। তাই আগে কথা শুনুন পরিচয় জানুন, পরে বিবেচনাবোধ প্রয়োগ করুন।

সব কবথার শেষ কথা হলো অতি উৎসাহী না হয়ে মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। মানুষকে সচেতন করুন। মানুষের সেবাই তো আপনাদের কাজ। দয়া করে খারাপ আচরণ করে সরকার এবং আপনার বাহিনিকে সমালোচিত করবেন না।

পরিশেষে বলতে চাই; ক্যালেন্ডারের পাতায় আমাদের স্বাধীনতার মাস চলমান। এই মাসেই ১৯৭১ সালে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ার ডাক এসেছিলো। ২০২০ সালের এই মাসে ডাক এসেছে ঘরে থাকার। আসুন সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশপ্রেমের পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হই। নিজে বাঁচি সেই সাথে বাঁচাই নিজের পরিবার, সমাজ আর দেশকে।

লেখক: কবি ও গণমাধ্যমকর্মী

Top