Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ রবি-উল-আউয়াল ১৪৪১

সিলেট আ.লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় লুৎফুর-শফিকসহ ৭ নেতা

 প্রকাশিত: ০৪, নভেম্বর - ২০১৯ - ০৭:২২:০৩ PM - Revised Edition: 30th April 2019

রফিকুল ইসলাম কামাল :: সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে এখন আলোচনা একটাই, সম্মেলন। আর সম্মেলন কেন্দ্র করে আসছে পদপদবীর আলোচনাও। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে কে আসছেন, এ নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমানসহ অন্তত সাত নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর নতুন নেতৃত্ব আসবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে জেলা শাখার সভাপতি পদে সাত নেতার নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। তাঁরা হলেন- এডভোকেট লুৎফুর রহমান, শফিকুর রহমান চৌধুরী, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, মাসুক উদ্দিন আহমদ, আশফাক আহমদ, আহমদ আল কবির ও মুক্তিযোদ্ধা সাদ উদ্দিন।

এডভোকেট লুৎফুর রহমান বর্তমানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পান লুৎফুর। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন তিনি। আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনে ‘ভারমুক্ত’ হতে চান লুৎফুর।

তিনি সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমি এবার সম্মেলনে সভাপতি পদে আছি। সম্মেলনে যদি কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ করা হয়, আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হবো। আশা করি, আমি থাকা অবস্থায় অন্য কেউ এ পদে প্রার্থী হবেন না। তবে কেউ প্রার্থী হলেও আমি বিজয়ী হবো।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটে দলের সকল শাখার সবাই আমার সাথে আছেন। আমার সাথে যোগাযোগ করছেন।’

সিলেট-৩ আসনের টানা তিনবারের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস; যিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে আছেন। এবার সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি পদে আসতে চান তিনি। এ লক্ষ্যে ‘মানসিক প্রস্তুতি আছে’ বলেও জানিয়েছেন কয়েস।

সিলেটভিউয়ের সাথে আলাপকালে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস বলেন, ‘১৯৬৮ সাল থেকে সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেখে আসছি, ৫১ বছর হয়ে গেছে। বিগত দিনে সভাপতি পদে আসার মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। তবে এবার আছে। যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) চান, তবে আমি আছি।’

তিনি বলেন, ‘সম্মেলনে যদি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তবে দলের নেতাকর্মীরা চাইলে আমি আছি।’

সভাপতি হতে পারলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে ‘ডিজিটালাইজড’ করতে চান মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তিনি সিলেটভিউকে বলেন, ‘সংসদে সবাই আমাকে ‘ডিজিটাল এমপি’ বলেন। আমি নতুন আঙ্গিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে সাজাতে চাই। নেত্রী কি চান, আমি জানি। সে আলোকেই কাজ করবো। আমার পদ্ধতি হবে ভিন্ন, সবকিছু হবে ডিজিটাল।’

জানা গেছে, সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ আলোচিত হচ্ছে শফিকুর রহমান চৌধুরীর নাম। তিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, বর্তমানে ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলী।

একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সিলেটভিউকে বলেন, শফিক চৌধুরী দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেতাকর্মীদের চাওয়া স্বত্বেও দু’বার তিনি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত থাকেন। দলের জন্য সবসময় কাজ করেন বলে তিনি ‘চব্বিশ ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবেও পরিচিত। এজন্য তিনি সভাপতি হলে দল আরো গতিশীল হবে।

শফিক চৌধুরীও নেতাকর্মীদের চাওয়াকে সম্মান দিতে চান। তবে তিনি বলছেন, পদের জন্য নয়, মানুষের জন্য তিনি রাজনীতি করেন। তিনি সিলেটভিউকে বলেন, ‘যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) দেন আর নেতাকর্মীরা চায়, তবে আমি সভাপতি পদে আগ্রহী আছি। তবে আমি কোনো পদের জন্য রাজনীতি করি না। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য।’

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বর্তমান সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ উদ্দিন আহমদ এবং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আহমদ আল কবিরের নামও শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আশফাক আহমদকে একাধিকবার কল করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ সিলেটভিউকে বলেন, ‘রাজনীতিতে প্রায় ৫২ বছর হয়ে গেছে। সবসময় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থেকেছি। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেন, তিনি যদি কর্মী হিসেবে রাখেন তাও আছি, দায়িত্ব দিলেও আছি।’

মাসুক উদ্দিন আহমদ ২০১৩ সালের নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে দলীয় প্রধানের নির্দেশে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

এদিকে, সাদ উদ্দিন আহমদ সিলেটভিউকে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে সিগন্যাল আসবে। এখনও আসেনি। এজন্য আগেভাগে কিছু বলতে চাই না। দেখা যাক।’

 

সৌজন্যে : সিলেটভিউ২৪ডটকম।

Top