Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবি-উল-আউয়াল ১৪৪১

জুড়ী আ.লীগের কাউন্সিলে তৃণমূল উপেক্ষিত

 প্রকাশিত: ১৪, অক্টোবর - ২০১৯ - ০৬:৪৮:৫২ PM - Revised Edition: 30th April 2019

 

জুড়ী প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগে ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে তৃণমূল উপেক্ষিত ও ‘বলির পাঠা’ হয়েছেন। দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ‘তৃণমুলের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন’ কে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তৃণমূলের দাবিকে উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেয়া হয় নেতৃত্ব।

এ নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ১২ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

তৃণমূলকর্মীরা বলেন, দীর্ঘ পনের বছর পর মৌলভীবাজারের নবসৃষ্ট জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল হয়ে গেল শনিবার। প্রথম কাউন্সিল হওয়ায় উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছিল। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেছিল তৃণমূল। সভাপতি পদে দুই প্রার্থী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ছয় প্রার্থী দীর্ঘদিন থেকে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। তৃণমূলের ভোটাররাও পনের বছর পর ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন।

কাউন্সিল অধিবেশনে বদরুল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক পদে ছয় জন প্রার্থী ছিলেন। তৃণমূল চাচ্ছিলাম গোপন ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করব। প্রার্থীরাও ভোটের জন্য অনঢ় ছিলেন। কিন্তু দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ঘোষণাকে উপেক্ষা করে এবং প্রার্থী ও ভোটারদের মতামতকে পদদলিত করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা নেতৃবৃন্দ অতিকৌশলে শুধুমাত্র ইউনিয়ন সভাপতি-সম্পাদকের মতামত নিয়ে সমঝোতার নামে দুই শতাধিক কাউন্সিলরের উপর মাসুক আহমদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাপিয়ে দিয়ে তৃণমূলের সাজানো মঞ্চকে নাট্য মঞ্চে পরিণত করেন।

দীর্ঘ পনের বছর পর ভোট দিতে না পারায় আমরা হতাশ হলাম। কাউন্সিলের পূর্বে আমাদের যে আশংকা ছিল, সে আশংকাই থেকে গেল।

তৃণমূলকর্মী আব্দুল লতিফ ও ডা: কন্দর্প নারায়ন দে বলেন, আমাদের ভোট যদি নাই নিতেন তাহলে এত আয়োজনের কি দরকার ছিল? জেলা থেকেই কমিটি দিতে পারতেন। নেত্রী যেখানে বলেছেন ভোটের মাধ্যমে কমিটি করতে সেখানে তারা নেত্রীর সিদ্ধান্ত মানলেন না। এতদিন পর তারা ভোট না দিয়ে আমাদের অধিকার হরণ করেছেন।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নজমুল ইসলাম মাষ্টার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬২ সাল থেকে ছাত্র আন্দোলন করে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগে আছি। অথচ তারা আমাকে মূল্যায়ন করেননি। অন্তত মানুষের ভোটটা নিতে পারতেন।

অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, নেত্রীর নির্দেশ যেখানে সারাদেশে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে অথচ তারা ভোট না দিয়ে নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না। কেন্দ্রীয় নেতা হানিফ সাহেব ও আহমদ হোসেন সাহেব বলে গেছেন ভোট দিতে। কিন্তু জেলা নেতৃবৃন্দ ভোট না দিয়ে তাদেরকে ধোকা দিয়েছেন। সারা দেশে যখন আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলছে টিক এই মুহুর্তে জুড়ী আওয়ামী লীগে নীল নকশা বাস্তবায়ন কেন করা হলো আমার জানা নেই।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগ যখন আমাকে প্রার্থী করলো সেই মূহুর্তে আমাকে মাইনাস করার জন্য ভোট দেওয়া হয়নি।

মাহবুবুল ইসলাম কাজল বলেন, ভোট হলে আমার বিজয় নিশ্চিত ছিলে। কিন্তু তারা ভোট না দিয়ে তৃণমূলের মতামত না নিয়ে নিজেদের পছন্দ মত নেতা বানিয়েছেন। কাউন্সিলারবৃন্দকে তাদের আবেগ, মতামত টা পর্যন্ত প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: কামাল হোসেন জানান, এ সম্মেলনে মাননীয় মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন সাহেব, বদরুল হোসেন এবং মাসুক আহমদের মুখে হাসি ফুটেছে। আওয়ামী লীগের মুখে হাসি ফোটেনি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি বলেন, তারা আমাদের উপর সমঝোতার দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা কমিটি করেছি। আপনারা সাংবাদিক বাহিরে ছিলেন তাই হয়তো এ বিষয়ে জানেন না।


তথ্যসূত্র : সিলেটভিউ২৪ডটকম

Top