Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৪ শাওয়াল ১৪৪১

শিরোনাম :
যে কারনে শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হলেন আজাদ || লকডাউনের মধ্যেও বালাগঞ্জে বিদ্যুৎ বিল প্রদানের তাগিদ || বালাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে জেলা পরিষদ সদস্যের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় || সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার চিরভাস্মর || বালাগঞ্জ পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মনাফ আর নেই || তাহিরপুরে সাংবাদিক রাজ্জাকের ওপর হামলা: বালাগঞ্জের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের নিন্দা || বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার উজ্জ্বলতম নক্ষত্র তাজউদ্দিন আহমদ || নাদেল-আজাদের করোনা : উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় সিলেট আওয়ামী পরিবার || করোনায় প্রাণ গেল শ্রীমঙ্গলে পৌর কাউন্সিলরের || করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশ থেকে জাপান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ||

‘এক বিছানায় শুতে হবে ভেবে আমার ভেতরটা তেতো হয়ে যেত’

 প্রকাশিত: ২৩, সেপ্টেম্বর - ২০১৯ - ০৬:৫০:৪৪ PM

 

আমার প্রাক্তন স্বামী (স্বামীই বলি, কারণ তিনি আমার সঙ্গী ছিলেন না) কখনো আমার অথবা আমার সন্তানদের গায়ে হাত তুলতেন না। কিন্তু অপেক্ষাকৃত দুর্বল সুবিধাবঞ্চিত মানুষদেরকে প্রায়ই তিনি নির্মমভাবে পেটাতেন, যার প্রতিটা আঘাত আমার শরীরে না হলেও আত্মায় এসে লাগত। প্রতিবাদ করতে গিয়েই আমাদের মধ্যে ঝামেলা হতো। এক সময় আমার সন্তানরাও প্রতিবাদ করতে শুরু করলে পারিবারিক অশান্তি চরম সীমায় পৌঁছে যায়।

বদমেজাজ এবং আদর্শের অমিলের কারণে কখনো ভালো না বাসতে পারা এই লোকটাকে ছেড়ে যেতে আমার দীর্ঘদিন লেগেছিল। যতদিন তার সাথে ছিলাম, দিনের বেলা কাজেকর্মে পড়াশোনায় ভালোই কেটে যেত। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই এই লোকটার সাথে আমাকে এক বিছানায় শুতে হবে ভেবে আমার ভেতরটা তেতো হয়ে যেত। আমি প্রতিদিন একবার করে মরতাম, প্রাণহীন তক্তার মতো নির্জীব পড়ে থাকতাম। তিনি বলতেন, আমার শারীরিক অথবা মানসিক সমস্যা আছে, ডাক্তার দেখানো দরকার। আমি নিজে অবশ্য আমার সমস্যার প্রকৃতি ভালোভাবেই জানতাম কিন্তু সমাধানের পথ সহজ ছিল না। শিক্ষা এবং উপার্জনক্ষমতা না থাকলে একজন মায়ের জন্য অনেক কিছুই সহজ থাকে না।

আমার কাছে অনেক নারীরা স্বামীর হাতে নির্যাতিত হবার কথা বলেন। দুর্বিসহ জীবন কাটিয়ে যাচ্ছেন তারা। দিনের বেলা পেটায় যে স্বামী রাতের বেলা তার সাথে ঘনিষ্ঠতার চেয়ে কষ্টকর বোধ করি আর কিছুই নেই।

একজন পুরুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র আত্মসম্মানবোধ থাকলে সে বৌয়ের গায়ে হাত তুলবে না, রাতে আবার সেই বৌয়ের কাপড় খুলবে না। বিন্দুমাত্র আত্মসম্মানবোধ থাকলে একজন স্বামী বৌ তাকে পছন্দ করে না জানলে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টাও করবে না।

কিন্তু যে নারীর শিক্ষা আছে, কিছুটা হলেও উপার্জন ক্ষমতা আছে, তাদেরও কি এমন একজন স্বামীকে ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ নয়? হয়ত সহজ নয়, কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে মরার চেয়ে কঠিন পথে একবার হাঁটার চেষ্টা করে কি দেখা যেতে পারে না? অন্তত বিষয়টা নিয়ে একটু কি ভাবা যেতে পারে না? ভাবতে গিয়ে হয়ত কোনো পথ খুলবে। যদি না ও খুলে হয়তো কিছুটা হলেও মানসিক শক্তি বাড়বে, প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়বে। তাই বা কম কী?

যারা স্বামীকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাদেরকে সাহায্য করা সহজ হয়। প্র্যাকটিক্যালি না হলেও অন্তত মানসিক সাপোর্ট দিয়ে অথবা সাহায্য করতে পারে এমন মানুষের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে। কিন্তু আপনারা যারা আমাকে নিজের জীবনের নির্যাতনের কথা জানিয়ে বলেন, 'কিছুতেই ছেড়ে যাওয়া সম্ভব না আপা', তাদেরকে আমি কীভাবে সাহায্য করব?

বরং এইসব কথা জানার পর আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। আমার ভালোবাসার মানুষটার পরম নির্ভরতার আলিঙ্গনে আবদ্ধ আমি রাতভর আপনাদের কষ্টের কথা ভেবে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থেকে শুধু অন্ধকার দেখি। একা ভালো থেকে আমি সুখী হতে পারি না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

এ বিভাগের​ আরও খবর


সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top