Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১

বালাগঞ্জের স্বাস্থ্যকেন্দ্র সমস্যাকেন্দ্রে পরিণত!

 প্রকাশিত: ২৮, অগাস্ট - ২০১৯ - ০৩:৫৭:৪০ PM - Revised Edition: 30th April 2019

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: শত সমস্যায় নিমজ্জিত বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সমস্যাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতিগুলাে অকেজো, অবকাঠামো জরাজীর্ণ, নেই ভাল চিকিৎসক, নেই ভাল নার্স, না আছে ভাল কর্মকর্তা, না আছে ভাল কর্মচারী। যারাই আছে সবাই ব্যস্ত নিজেদের স্বার্থ নিয়ে। কেউ থাকেন সিলেটে, কেউ থাকেন চেম্বারে। অদক্ষ কিছু চিকিৎসক ইমার্জেন্সিতে থাকলেও রোগী যাওয়ার সাথে সাথে রেফার্ড করেন সিলেটে। সব সময় চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মেজাজ থাকে কিটকিটে। কথা বলতে গেলেই তারা রেগে যান। গরীব রোগীদের প্রতি তারা এতটাই খারাপ ব্যবহার করেন যে, রোগীর আত্মীয়রা তখন অসহায়বোধ করেন। এমনি অবস্থাতেই চলছে বালাগঞ্জের স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

দেশ যখন স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন বালাগঞ্জ যাচ্ছে পিছিয়ে। বালাগঞ্জ পিছিয়ে পড়ার একটি নমুনা বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সুদীর্দ ৫০ বছর পূর্বে নির্মিত হাসপাতালের ভবনগুলাে যেমনি জরার্জীর্ণ তেমনি বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলাে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালের রাস্তার অবস্থা খু্বই করুন। যার ফলে রোগী ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করেন।

দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে পুরনো এ্যাম্বুলেন্স যা দিন দিন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। লোকবল সংকটের কারনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অষত্নে আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অ্যানেস্থেশিয়া, সিজারিয়ান সেট, ইনকিউবেটর, স্পার্কিং মেশিন ও ডায়াখার্মিসহ অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হওয়ার পর দুটি অ্যাম্বুলেন্সের দাবি করা হলেও ২০০৯ সালে নতুন একটি আম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে এক্স-রে মেশিন ও ২০০০ সাল থেকে জেনারেটরটি নষ্ট হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ব্যহত হচ্ছে। মেটারনিটি বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবা প্রদানও সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে লোকবল শুন্যতা, জরাজীর্ণ ভবন, রোগীদের দুটি ওয়ার্ডের ভিতরে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়া, প্রয়ােজনীয় জনবল অভাব, চিকিৎসকরা হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান না করা, পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ না করা। সম্প্রতি সময়ে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও কাজ না ধরা সব মিলিয়ে নানাবিধ সমস্যা নিরসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক মানােন্নয়নের করা অপরিহার্য্য হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সুত্র থেকে জানা যায়, ১৯৮ টি পদের মধ্য শুন্যপদ ৭৬ টি। এছাড়া ৬টি উপস্বাস্খ কেন্দ্রে ২৪ টি পদের মধ্য ১৩ টি পদ শুন্য। স্যাটেলাইট ক্লিনিকের ৩৭ টি পদের মধ্য ৪টি শুন্য। ১৭ জন ডাক্তারের মধ্য আছেন মাত্র ৫ জন। ডেংগু রোগীর সনাক্ত করনের ২টি কীট থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন ডেংগু জ্বরের রোগী পাওয়া যায়নি।

মমতা প্রকল্প হাসপাতালে প্রসুতি সেবা ও বেবীদের জন্য ফিডিং সেন্টার স্থাপন করা হয় গত বছর। হাসপতালের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এস এম শাহরিয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে মেশিন নষ্ট, টন্সফরমার, প্রয়োজনীয় ডাক্তার সংকট, পরিত্যক্ত ভবন, ৩১ শয্যার হাসপাতাল ৫০ শয্যায় কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলে এখনও শুরু হয়নি। উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে একাধিকবার অবগত করেছি।

এ বিভাগের​ আরও খবর


সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top