Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১

কাবিননামায় ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘অবিবাহিত’ লেখার নির্দেশ 

 প্রকাশিত: ২৫, অগাস্ট - ২০১৯ - ০৩:১৯:৩৯ PM - Revised Edition: 30th April 2019

হাইকোর্ট। ফাইল ছবি
 

কাবিননামার সরকারি ফরমে পাঁচ নম্বর কলামে কনে ‘কুমারী’ শব্দটি বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ‘কুমারী’ শব্দের স্থলে ‘অবিবাহিত’ লিখতে বলেছেন আদালত।

একই সঙ্গে কাবিননামার ফরমে ৪ এর ‘ক’ উপধারা সংযোজন করে ছেলেদের ক্ষেত্রে বিবাহিত, অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত কি না তা লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিস্পত্তি করে রোববার (২৫ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না এবং অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার লিপি। সম্পূরক আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

এর আগে বিয়ের কাবিননামার ফরমে কনে কুমারী, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত সংক্রান্ত পাঁচ নম্বর কলাম থাকার বৈধতা নিয়ে রিট করা হয়।

রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালে, কাবিননামার ফরমের (বাংলাদেশ ফরম নম্বর-১৬০০ ও ১৬০১) পাঁচ নম্বর কলাম কেন বৈষম্যমূলক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেন ‘কুমারী’শব্দটি বিলোপ করে কাবিননামা সংশোধন করা এবং বরের বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কোনো ক্রমিক কাবিননামায় উল্লেখ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।

রুল শুনানির এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান কাবিননামায় মেয়েদের তথ্যের পাশাপাশি ছেলেরা বিবাহিত, অবিবাহিত বা তালাকপ্রাপ্ত কি না তা অন্তর্ভূক্তির জন্য সম্পূরক আবেদন করেন।

পরে আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, কাবিননামার ফরমের (বাংলাদেশ ফর্ম নম্বর-১৬০০ ও ১৬০১) পাঁচ নম্বর কলাম কেনো বৈষম্যমূলক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেনো ‘কুমারী’শব্দটি বিলোপ করে কাবিননামা সংশোধন করা এবং বরের বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কোনো ক্রমিক কাবিননামায় উল্লেখ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছিলো।

এ ছাড়া বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের সময় উভয় পক্ষের ছবি কাবিননামায় কেনো সংযুক্ত করা হবে না সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

এই রুলের শুনানিতে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বেলায়েত হোসেন।

ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন পরে সাংবাদিকদের বলেন, ৫ নম্বর কলামে এটা থাকা উচিত না। কারণ ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তাকে ক্ষু্ণ্ণ করে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এগুলো থাকা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম শরীয়তে এধরনের শর্ত নেই।

ওই অনুচ্ছেদটি বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০১৪ সালে ৭ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনটি করে।


সৌজন্যে : পূর্বপশ্চিমবিডি

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top