Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ সফর​ ১৪৪১

শিরোনাম :
অভাবনীয় ঘটনা : নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে একটি ভোটও পাননি আলম! || সন্তানকে কোলে রেখেই ছুরির নিচে দেন পিতা || আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে “বঙ্গবীর মানব কল্যাণ সোসাইটি” || বালাগঞ্জে বড়ভাঙ্গা নদীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান: ২ লক্ষাধিক টাকার জাল জব্দ || ঢাকায় আসবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ || গ্যাস সংযোগ আর পাবেন না, আমরা সিলিন্ডারে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী || ক্রিকেটে বাউন্ডারি সংখ্যায় জয় নির্ধারণের নিয়ম বাতিল || দিরাইয়ে শিশু হত্যা : নিহত শিশুর বাবাসহ পরিবারের ৩ জন জড়িত || বালাগঞ্জের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল ল‌তিফ'র দাফন সম্পন্ন || অটোরিকশায় চড়ে সড়ক পরিদর্শনে রাষ্ট্রপতি ||

শারমিন সুলতানা লিলি: ছাত্র রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের অহংকার

 প্রকাশিত: ১১, জুলাই - ২০১৯ - ০৪:০৫:১৪ PM - Revised Edition: 30th April 2019

তথ্যসূত্র কামাল আহমদ :: মেয়েটি প্রথম যেদিন দাদার (ভাই) সাথে পড়াশুনার জন্য ঢাকায় আসেন সেদিন দাদাকে অনেকে অনেক কথা শুনিয়েছিলো, ‘বোনকে ঢাকায় এনেছে কিছুই করতে পারবো না ইত্যাদি ইত্যাদি।’ দাদা কান্না জড়িত কণ্ঠে সেদিন মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন ‘আপু, তুমি যদি কোন দিন কিছু হতে পার আমার মত খুশি কেউ হবে না।’ দাদা এখন কতটা খুশি হয়েছেন জানিনা, তবে এদেশের হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মীর কাছে মেয়েটি এখন নয়নমণি, অনেকেই তাকে নারী নেত্রী হিসেবে আইডল মনে করে। আর সেই মেয়েটি হলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সংগ্রামী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি।


শারমিন সুলতানা লিলি ১৯৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশুনা করেছেন পি.টি.আই স্কুল, বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি পি সি কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা কলা অনুষদে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৩-২০০৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন এবং এখান থেকে বিএফএ ও এমএফএ পাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর তিনি সক্রিয় ভাবে ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। এক্ষেত্রে তার পরিবার কখনও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি বরং পারিবারিক উৎসাহ তাকে ছাত্ররাজনীতিতে আরও সক্রিয় করে তুলে। তিনি যখন ইন্টারমিডিয়েট এর স্টুডেন্ট তখন তার এক ভাই বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন আর অন্য এক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি রাজনীতি করতে চাইলে তার ভাই তাকে কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং কলেজ ছাত্রলীগের সাথে থাকার কথা বলেন। এরপর বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাথে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধি দেখতে গিয়েছেন এবং এর কিছুদিন পরে সুন্দরবনে জেলা ছাত্রলীগের সাথে পিকনিকে গিয়েছিলেন।

06

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং রোকেয়া হলে থাকা তার জীবনে একটি টার্নিং পয়েন্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার সামনে যেন বিশাল এক দাড় উন্মোচিত হয়। এসময় তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন । হল পর্যায়ে রাজনীতি করতে এসে তিনি পেয়েছিলেন চমৎকার কিছু মানুষকে। যাদের মধ্যে বানী ইয়াসমিন হাসি, গুলসাহানা উর্মি,

 

২০০৫ সালের মে মাসের কথা। একদিন শুনলেন রোকেয়া হলের এক আপু শাহবাগে গাড়ি চাপায় মারা গেছে। খবর পাওয়া মাত্র তারা চারুকলা থেকে শাহবাগের দিকে মিছিল করতে যান এবং যাথারীতি সেই মিছিলে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। রোকেয়া হলের সাধারণ সম্পাদক সীমা ইসলাম মারাত্নকভাবে আহত হন। এর পর ৬দফা দাবিতে তারা রোকেয়া হলের সাধারণ ছাত্রীদের নিয়ে ভিসিকে চারুকলার ডীন অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তখন তাদের উপর ছাত্রদল নগ্ন হামলা চালায়। অনেক সাধারণ ছাত্র- ছাত্রীরা আহত হয়। তারা যখন ভিসি অফিসের সামনে থেকে মিছিল করতে করতে মধুর দিকে আসছিলেন তখন আবার মধুর দিক থেকে ছাত্রদল তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, তারা দৌড়ে পলিটিকাল সাইন্সের তিনতলায় আশ্রয় নেয় আর তাদের মধ্যে দু একজন মধুর মধ্যে ঢুকে পরলে তাদের উপর হামলা করা হয়।

04

বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুঃশাসনের ফলে দেশে জন্ম নেয় ওয়ান ইলেভেন। আর এসময় কারাবন্দী হন শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনীতিবিদ। গণতন্ত্র হয়ে যায় অবরুদ্ধ। ওয়ান ইলেভেন এর সময় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে শারমিন সুলতানা লিলি ছিলেন একজন অগ্রসৈনিক। একদিন কয়েকজন ছাত্রকে সেনাবাহিনী পিটালে তিনি হল থেকে বের হয়ে আর্মিকে লক্ষ্য করে প্রথম ইট মেরেছিলেন। ফলশ্রুতিতে আর্মিরা রোকেয়া হলের গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করেছিল । সেদিন টিয়ারসেলের ধোঁয়া থেকে বাঁচতে হল থেকে পেপার এনে আগুন জ্বালিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৪৪ ধারা জারি হলে শেষ পর্যন্ত তাদের ক্যাম্পাসে থাকার চেস্টা, এরপর অতগ্যা ক্যাম্পাস ত্যাগ এবং অতঃপর আত্মগোপন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। এক সময় শেখ হাসিনা মুক্তি পান। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সেই আন্দোলনে বানী ইয়াসমিন হাসি ও শারমিন সুলতানা লিলির নেতৃত্বে রোকেয়া হলের মেয়েরা অগ্রণী ভুমিকা রাখে।

03

এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানমন্ডিতে শেখ ফজলে নূর তাপস এর নির্বাচনী এলাকায় ওয়ার্ক করেছেন। পলিং এজেন্ট ছিলেন উদয়ন স্কুলে এবং সারারাত জেগে ধানমন্ডির মিডিয়া সেলে নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন, সেই আনন্দ মুহূর্ত ভাগাভাগি করার জন্য তখন তাদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রেদওয়ান সিদ্দিক ববি, টিউলিপ এবং রুপন্তি উপস্থিত ছিলেন।

05

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে শাহাবাগে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো সেই আন্দোলনে শারমিন সুলতানা লিলির কণ্ঠে ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’ এখনও সবাইকে জাগ্রত করে।


তার ছাত্র রাজনীতির ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রোকেয়া হল শাখার সভাপতি ছিলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন, বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বরত।

 

তার মতে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হচ্ছে সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন। সুদীর্ঘ এর ইতিহাস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হত না যদি ৭১ না আসত, ৭১ আসত না যদি ৬৯ না আসত, ৬৯ আসত না যদি ৬৬ না আসত, ৬৬ আসত না ৬২ না আসত , ৬২ আসত না যদি ৫২ না আসত, ৫২ আসত না যদি ৪৯ এ আওয়ামীলীগের জন্ম না হত, আওয়ামীলীগের জন্ম হত না যদি ৪৮ এ ছাত্রলীগের জন্ম না হত, আর ছাত্রলীগের জন্ম হত না যদি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হত।’ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। তাই ছাত্রলীগ নিয়ে তার ভাবনার শেষ নেই। ছাত্রলীগ তার প্রাণের স্পন্দন। তার মতে, এই ছাত্রলীগ নিয়ে ষড়যন্ত্রের শেষ নেই, অতীতেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। তাই এ নিয়ে বিচলিত হবার প্রয়োজন নেই। তবে সবসময় চেষ্টা থাকতে হবে সমালোচনার উর্দ্ধে থাকার। ছাত্রলীগ একটি বৃহৎ সংগঠন। তাই এই সংগঠনের কাউন্সিল নিয়মিত হতে হবে। নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ার ফলে নেতৃত্বে একটা গ্যাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই নেতৃত্বের শূন্যতা কোন কিছুর বিনিময়ে পুরণীয় নয়। এর ফলে অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে শুন্য হাতে। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি যেন না হয় তার অঞ্চল।এর ভিতর থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। তার পরিবর্তে যেন সৎ, মেধাবী এবং প্ররিশ্রমী ছাত্রনেতাদের যেন মুল্যায়ন করা হয়। আর একটা কথা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা যেন এটা বিবেচনায় না রাখি যে কে কত অনুগত,আমাদের দেখতে হবে সে দলের প্রতি অনুগত কিনা, সে দলকে কতটুকু দিতে পারবে,তার ভিতরে নেতৃত্ব গুন বিদ্যমান আছে কিনা। শুধু মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বিশ্বাস করি বললেই চলবে না বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করতে হবে। তিনি মনে করে্‌ যে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করতে পারে তার দ্বারা সংগঠনের কোন ক্ষতি করা সম্ভব নয়।

02

তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন যখন দেখেন আগামী প্রজন্মের ভিতর একটু হলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন। বাংলাদেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ,আশা,বিশ্বাস তাদের মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখেন। তার পাঁচ বছরের ভাগ্নি নওশি কে যখন দেখেন নেত্রিকে নিয়ে চিন্তা করতে, বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিলে নেত্রী সেই আন্দোলন মোকাবিলা করতে পারবে কিনা এটা জানতে চাইলে!! ভালোলাগে যখন দেখেন তার ১২ বছরের ভাইপো উদয় তাকে বক্তব্য লিখে দেয় বিএনপির জ্বালাও পোড়াও নিয়ে!


আমরাও তার সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা করি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখকঃ মোঃ আলমগীর হোসেন, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top