Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবি-উস-সানি ১৪৪১

কিছু সংশোধনের মধ্য দিয়ে অর্থবিল পাস!

 প্রকাশিত: ২৯, জুন - ২০১৯ - ১০:২২:৩৫ PM - Revised Edition: 30th April 2019

ফাইল ছবি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে এসব সংশোধনের সুপারিশ করেন। পরে অর্থমন্ত্রী তা সংশোধন করে নিলে অর্থবিল-২০১৯ সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে সংসদে বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বাজেট বাস্তবায়নের ফলে দেশের প্রত্যেক মানুষ উপকৃত হবেন। বাংলাদেশ যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে (১০%) উন্নীত হবে, যা এখন আছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সংসদে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও বাজেটের সংশোধনীর বিষয়ে একটি কথাও বলেননি। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রস্তাব করেন এবং তা পাস হয়।

অতীতে দেখা যায়, মূল বাজেট ঘোষণায় যেসব করপ্রস্তাব করা হয়, ব্যবসায়ীসহ সংশ্নিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা সংশোধন করা হয় এবং সংসদকে জানানো হয়। কিন্তু এবারই ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটল। শনিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য দিলেও সংশোধনীর বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। ফলে অর্থবিলের পাসের মধ্য দিয়ে মূল বাজেটের করপ্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হয়ে গেল। রোববার পাস হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট।

গত ১৩ জুন বাজেট ঘোষণায় পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় কোম্পানিগুলোকে ক্যাশ ডিভিডেন্ডে বা নগদ লভ্যাংশ উৎসাহিত করার জন্য স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমাজের কেউ কেউ আপত্তি জানিয়েছে। বিনিয়োগকারীও নগদ লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে।

এসব বিবেচনা করে শর্ত সাপেক্ষে করহার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি যে পরিমাণ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, কমপক্ষে তার সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে। যদি কোম্পানি ঘোষিত স্টক লভ্যাংশের পরিমাণ নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে স্টক লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
বাজেট ঘোষণায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি রিটেইন আর্নিং, রিজার্ভ থাকলে অতিরিক্ত রিটেইন আর্নিং, রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, এ প্রস্তাবের আপত্তি করেছে কেউ কেউ। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধারাটির আংশিক সংশোধন করা হয়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কোনো অর্থবছরে করপরবর্তী নিট লাভের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ রিটেইন আর্নিং, ফান্ড, রিজার্ভে স্থানান্তর করতে পারবে। অর্থাৎ কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে হবে। যারা এই শর্ত পালন করবে, তাদের ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর যদি কোনো কোম্পানি শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই সুবিধা পাবে না।

নতুন ভ্যাট আইনে ১৫ শতাংশ হারে যারা ভ্যাট দেবে, শুধু তারাই রেয়াত বা ক্রেডিট সুবিধা পাবে বলে উল্লেখ করা হয়। এটি সংশোধন করে বলা হয়, ১৫ শতাংশের নিচের স্তরে যারা ভ্যাট দেবেন, তারাও রেয়াত সুবিধা পাবেন।

বাজেট ঘোষণায় সুতা আমদানির মোট মূল্যের ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়। সংশোধন করে প্রতি কেজি সুতা আমদানিতে নির্ধারিত চার টাকা ভ্যাট আরোপ করা হয়। দেশি শিল্পের সুরক্ষায় আমদানি করা কাগজের শুল্ক্কহার যৌক্তিক করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে যৌক্তিকপূর্ণ শুল্ক্ক কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে কিছু ক্ষেত্রে শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য: আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এবারের বাজেটে তিনি এমন কিছু ব্যবস্থা নিয়েছেন, যার ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশকে একটি অনন্য (ইউনিক) দেশ হিসেবে অভিহিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ভালো।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, চীনে জিডিপির তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত যেখানে ২৮৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে ৩৪ শতাংশ। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সামর্থ্য যেভাবে বাড়ছে, তাতে করে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদেশি ঋণের প্রয়োজন হবে না। বরং বাংলাদেশ অন্য দেশকে ঋণ দেবে। দুটি খাতে স্বচ্ছতা আনতে পারলে দেশের রাজস্ব আয় অনেক বাড়বে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে বন্ড সুবিধার নামে বছরে এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি হয়। এটি বন্ধ করতে পারলে রাজস্ব আয় অনেক বাড়বে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে পারলে বাড়তি ৩০ হাজার কোটি টাকা আহরণ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য উল্লিখিত দুটি খাতে বেশি নজর দেওয়া হবে।

বক্তব্যের শুরুতে বাজেট বক্তৃতা কেন দিতে পারেননি, তার কারণ সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী। মুস্তফা কামাল বলেন, ১৩ জুন বাজেট ঘোষণার সময় পুরোপুরি ব্ল্যাকআউট ছিলাম। বইয়ের পাতা ওল্টানোর জন্য হাতে কোনো শক্তি পাইনি। চোখ অন্ধকার হয়ে আসছিল। কোনো কিছু মনে পড়েনি। মনে হয়েছিল, আসন থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করি আমাকে সহায়তা করার জন্য। তিনি এগিয়ে আসেন এবং বাজেট ঘোষণা করেন। এ জন্য সারাজীবন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

Top