Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

যে ভাবে চিনবেন লাইলাতুল কদর!

 প্রকাশিত: ০১, জুন - ২০১৯ - ১০:১৬:২৬ PM - Revised Edition: 30th April 2019

 

 

 

কূল ডেস্ক :: রমজান তথা বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত রাত ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’। পবিত্র কোরআন মজিদে আল্লাহ পবিত্র এই রাতকে হাজার মাসেরে চেয়েও উত্তম বলে ঘোষনা করেছেন। তাই আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এবং গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে বেশি করে ইবাদত বন্দেগি করে থাকেন।

ফজিলতপূর্ণ এই রাতেই নাজিল হয়েছিল বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ মহানগ্রন্থ আল কোরআন।

লাইলাতুল কদর প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত : ১-৩)

হাদিস শরিফেও লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ৭৬০; বুখারি, হাদিস নং: ২০১৪)

আলেম ওলামারা বলে থাকেন রমজানের শেষ ১০ দিনের এক বিজোড় রাতই হচ্ছে শবে কদর। তবে কোরআন বা হাদিকে নির্দিষ্ট করে ওই তারিখ বা রাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে লাইলাতুল কদর বোঝার কিছু আলামত বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (সহিহ বোখারি)।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর। (বুখারি)

এ রাত রমজানের শেষ সাত দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) অন্বেষণ করতে চায়, সে যেন রমজানের শেষ সাত রাতের মধ্য তা অন্বেষণ করে।’

রমজানের ২৭ শে রজনী লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন , আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসুল (সা.) আমাদেরকে যে রজনীকে কদরের রাত হিসেবে কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হল রমজানের ২৭ তম রাত।’ (সহিহ মুসলিম)

আবদুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা রমজানের ২৭ রজনীতে অনুসন্ধান করে। (মুসনাদে আহমাদ)

কদরের রাত হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনার দিক থেকে পরবর্তী দ্বিতীয় সম্ভাবনা হল ২৫ তারিখ, তৃতীয় হল ২৯ তারিখে। চতুর্থ হল ২১ তারিখ। পঞ্চম হল ২৩ তারিখের রজনী।

সর্বশেষ আরেকটি মত হলো- মহিমান্বিত এ রজনীটি স্থানান্তরশীল। অর্থাৎ প্রতি বৎসর একই তারিখে বা একই রজনীতে তা হয় না এবং শুধুমাত্র ২৭ তারিখেই এ রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়। আল্লাহর হিকমত ও তার ইচ্ছায় কোনো বছর তা ২৫ তারিখে, কোনো বছর ২৩ তারিখে, কোনো বছর ২১ তারিখে, আবার কোনো বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে।

আলেম ওলামাদের মতে, শবে কদরের রাত গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না। এ রাত নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না। মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।

শবে কদরের রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে। কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা স্বপ্নে হয়তো জানিয়েও দিতে পারেন। ওই রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।

সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। দেখতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো হবে। (ইবনু খুজাইমা, হাদিস নং: ২১৯০; বুখারি, হাদিস নং: ২০২১; মুসলিম, হাদিস নং: ৭৬২)

সৌজন্যে : সিলেটভিউ২৪ডটকম।

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top