Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ শাওয়াল ১৪৪০

ভূমি জরিপে ড্রোন ব্যবহার করা হবে!

 প্রকাশিত: ২৪, মে - ২০১৯ - ০৪:০১:৫৭ PM - Revised Edition: 30th April 2019

 

কূল ডেস্ক :: ভূমি জরিপ কাজে প্রথমবারের ন্যায় ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ভূমির ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবে চৌকস একটি টিম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে আরও নিখুঁতভাবে ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে ভূমি প্রশাসনের সব অফিসের মধ্যে ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালু হয়ে যাবে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রকল্পটির যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে সত্যিকারার্থে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হল।

জানা গেছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের জন্য সরকার প্রথম ধাপে কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়। সম্প্রতি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরে এর অফিসিয়াল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৩ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৩৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল প্রায় ৭১ কোটি, অবশিষ্ট ২৮১ কোটি টাকা স্বল্প সুদে ঋণ দেবে কোরিয়া সরকার। এ টাকার বেশিরভাগ ব্যয় হবে কোরিয়া থেকে যন্ত্রপাতি কেনা ও তাদের পরামর্শকদের পেছনে। প্রকল্প চালাকালীন সময়ে এ বিষয়ে কোরিয়ান একটি এক্সপার্ট টিম বাংলাদেশ অবস্থান করবে। ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজ ত্বরান্বিত করতে তারা স্থানীয়ভাবে ভূমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণও দেবে।

প্রকল্প এলাকার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, মানিকগঞ্জ পৌরসভা, ঢাকার ধামরাই উপজেলা ও কুষ্টিয়া পৌরসভাসহ সদর উপজেলা। প্রকল্পটির বাস্তব কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস, এসি ল্যান্ড অফিস ও ভূমি সেটেলমেন্ট অফিসের মধ্যে ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালু হবে। ভূমি রেজিস্ট্রি ও নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের সব সিদ্ধান্ত ডিজিটাল লিংকে আদান-প্রদান হবে। ফলে জমি কেনাবেচার মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হলেও তা ডিজিটাল জরিপে হালনাগাদ হয়ে ধরা দেবে।
মোদ্দাকথা, পুরো বিষয়টি সম্পন্ন হবে অটোমেশন পদ্ধতিতে, যা অনেক উন্নত দেশে সফলভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এর ফলে সেখানকার নাগরিকরা চাইলে মুঠোফোনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অ্যাপসে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত জমিসহ যে কোনো জমির হালনাগাদ তথ্য সহজে পেতে পারেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) নেছার আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নিঃসন্দেহে ভূমি প্রশাসনে নতুন এক দুয়ার খুলে দেবে। এর ফলে ভূমি প্রশাসনের কাজে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
বিশেষ করে ডিজিটাল সার্ভে, ম্যাপ এবং খতিয়ান ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি মালিকানার অধিকার আরও যথাযথভাবে নিশ্চিত করা সহজ হবে। এছাড়া ভূমি বিরোধ হ্রাস করাসহ ভূমি হতে সরকারের রাজস্ব আয় আরও বাড়বে। সর্বোপরি ভূমি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের মান আরও আধুনিক ও টেকসই হবে। তিনি জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বাধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনসাধারণকে উন্নত সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জনহিতকর এ প্রকল্পটি যাতে যথাযথভাবে সময়মতো বাস্তবায়ন হয় সেজন্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী ক্লোজ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছেন। এটি সফলতা পেলে পর্যায়ে সারা দেশে ডিজিটাল ভূমি জরিপের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া দেশে যাতে এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা যায় সেজন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বুয়েটে পৃথক বিভাগ খুলতে ভূমিমন্ত্রী ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

 

সৌজন্যে : আমাদের সময়।

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top