Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ছেলের জন্য টানা ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখছেন মা

 প্রকাশিত: ১২, মে - ২০১৯ - ০৩:৩১:১৬ PM - Revised Edition: 30th April 2019

 
 

কূল ডেস্ক :: ঝিনাইদহে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফেরত পেতে মা সখিরন নেছা ওরফে ভেজা (৭৫) নিয়ত করেন যদি কখনো ছেলেকে ফেরত পান তাহলে তিনি রোজা রাখবেন। মায়ের নিয়ত বলে কথা। ছেলে বাড়ি ফিরেছে ৪৪ বছর আগেই। সেই থেকে তিনি রোজা রাখছেন। ওই মায়ের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খায়েরের স্ত্রী। ইসলাম ধর্মের বিধান মতে যে কয়েকটি রোজা রাখা নিষেধ সেগুলো বাদে তিনি সব রোজাই রেখে চলেছেন। তিনি আরো প্রতিজ্ঞা করেন ছেলের কারণে যতদিন তিনি বেচে থাকবেন ততদিন রোজা রাখবেন। তবে বয়সের ভারে শরীর অসুস্থ হলেও তিনি রোজা রেখেই চলেছেন।

সখিরন নেছা জানান, ১৯৭৫ সাল তখন বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম শহিদের বয়স ১১ বছর তখন একদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিয়েও পাওয়া যায়নি। তাকে না পেয়ে পরবর্তিতে বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ এবং দরগায় খানা করা হয়। এমনকি বিভিন্ন স্থানে খানা করা হয়। তখন মানুষের খুব অভাব চলছিল, ধারনা করা হচ্ছিল হয়তো কোন জায়গায় খাবার না পেয়ে মসজিদ বা দরগায় খানা খেতে আসবে। কিন্ত কোন লাভ হল না। এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন তাকে জীবিত পাবার আশা ছেড়েই দিয়ে ছিল।

তিনি আরো জানান, পরিবারের লোকজনের ছাড়া আমি একা একা ছেলেকে খুঁজে বেড়াতাম। প্রায় দেড় মাস পর, রমজান মাস আসলো। রোজা থাকা অবস্থায় একদিন সন্ধ্যার পূর্বে গ্রামের কাজী পাড়া জামে মসজিদের নিকট ছেলেকে খুঁজতে গেলাম। না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফির ছিলাম। মসজিদের নিকট আসতেই, মসজিদে হাত দিয়ে, মসজিদকে স্বাক্ষী রেখে ছেলেকে ফিরে পেলে যতদিন জীবিত থাকবো রোজা বাখবো বলে ওয়াদা করি। বাড়িতে ফিরে দেখতে পাই ছেলে শহিদ বাড়িতে ফিরে এসেছে। প্রতিবেশি এবং পরিবারের লোকজন আমাকে ছেলে ফিরে এসেছে খবর দিতে খুঁজে বেড়াচ্ছে। সেই থেকে দীর্ঘদিন রোজা রাখছি।

বাজার গোপালপুর গ্রামের মাসুম শেখ জানান, আমার বুদ্ধি জ্ঞান হবার পর থেকেই দেখছি সখিরন নেছা ওরফে ভোজা (বুবু) রোজা রাখছেন। শত অভাব অনটনের মধ্যে, পরের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলে মেয়েদের বড় করেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর মুসলমান ধর্মের বিধান মেনে, বড় ছেলে শহিদুল হারিয়ে যাবার পর ফিরে পেয়ে রোজা রাখছেন।

তিনি আরো বলেন, মা তো মা-ই। মায়ের তো কারো সাথে তুলনা হয় না। তবে ভেজা ছেলের জন্য যে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা একমাত্র মা বলেই সম্ভব হচ্ছে। তার মত আর মা আছে বলে আমার জানা নেই।

সখিরন নেছার হারিয়ে যাওয়া ছেলে শহদিুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক মা’ই তার সন্তানদের ভালোবাসেন। তবে আমার মা আমার জন্য সারাজীরন রোজা রাখবেন বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে পালন করছেন পৃথিবীতে এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই। আমি মনে করি আমার মা’ই শ্রেষ্ঠ।

এ বিষয়ে মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল জানান, আমার ইউনিয়নের এক মা তার সন্তানের জন্য সারাজীবন রোজা রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বিরল। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর রোজা রেখে চলেছেন। প্রত্যেক মা’ই তার সন্তানকে ভালোবাসেন। তবে সখিরন নেছার মত এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই।

উল্লেখ্য, সখিরন নেছা ওরফে ভেজার ৩ ছেলে এবং ৩ মেয়ে।

 

সৌজন্যে : পূর্ব-পশ্চিম বিডি

এ বিভাগের​ আরও খবর


সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top