Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৭ শাওয়াল ১৪৪১

শফিক চৌধুরীর স্মৃতিতে এখনো জ্বলজ্বলে সেই রাত

 প্রকাশিত: ১০, মে - ২০১৯ - ০৮:০১:৫৬ PM

 

এনামুল কবীর :: ১২ বছর কেটে গেছে। অথচ কথা বলার সময়ে মনে হলো, এইতো সেদিনের ঘটনা।

২০০৭ সালে সাবেক সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একসাথে ৪০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতারের স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে অকপটে বলে গেলেন ছোটবড় সব ঘটনার কথা।

বৃহস্পতিবার নগরীর টিলাগড়স্থ নিজের বাসায় বসে এই প্রতিবেদকের সাথে স্মৃতিচারণ করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী।

সেরাতের ঘটনা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তখন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্টিম রোলার চলছে। সারাদেশে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ব্যাপক ধড়পাকড়ের মুখে।

এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সাথে স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকজন নেতাসহ ১৪ মে রাতে তার সদর উপজেলার পীরের বাজারস্থ বাগান বাড়িতে মতবিনিময়ে বসেছিলেন।

রাতে খাওয়াদাওয়ার পর হঠাৎ সেখানে আক্রমন করে যৌথবাহিনী। তারা ৪০ জনের সবাইকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে কোতোয়ালি থানায়।

সেখানে নিয়ে চলে অবর্ননীয় মানসিক নির্যাতন। সরকারের বিভিন্ন দফতরের লোকজন এসে একের পর এক জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালিয়েছিল।

রাত ১২টার দিকে তাদের পাঠানো হয়েছিল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। ভেতরে আমদানিতে থাকা আসামীরা তাদের দেখে প্রথমে চিনতে পারেনি। তাই ব্যাঙবিদ্রুপ করে। পরে যখন পরিচয় জানতে পারেন, তখন তারা নিজেদের চাদর-লুঙ্গি দিয়ে তাদের শোয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। সেই আসামীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ঝরে পড়ে তার কন্ঠে।

জেলেও তাদের অবর্ণনীয় মানসিক নির্যাতন সইতে হয়েছে। বাথরুম গোসল ব্যবহার করার মতো ছিলনা। হাসপাতালে গিয়ে প্রাকৃতিক ক্রিয়া-কর্ম সারতে হয়েছে।

জানালেন, জেলে ফারুক চৌধুরী, সৈয়দ শাহেদ রাজা ও তিনিসহ কয়েকজন বড় নেতাকে ফাঁসির আসামীদের সেলে রাখতে চেয়েছিল সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে তারা বাধ্য হয়েছিল।

সাবেক এ সাংসদ তার স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, ১১ দিন পর ২৬ জনের জামিন হলেও তিনিসহ আরো ১৪ জন বন্দী ছিলেন পুরো ৫ মাস ১১ দিন।

এসময় তিনিসহ তার সাথে কারাবন্দী সব নেতার জন্য উকিল খরচসহ অন্যান্য যাবতীয় খরচ তার পরিবারের সদস্যরাই যোগান দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তার ভাবি লুৎফুন্নাহার চৌধুরীর কথাও তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তাদের জামিনের ব্যবস্থা করতে লন্ডন থেকে ছুটে এসেছিলেন তার ভাই হামিদুর রহমান চৌধুরীও। তিনি বলেন, জেলের ভেতরে নেতৃবৃন্দের দেখাশুনা করেছি আমি নিজে আর বাইরে আমার ভাই-ভাবীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

তিনি তখনকার জেলারসহ তাদের পক্ষে আদালতে লড়াই করা অ্যাডভোকেটদের কথাও তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন।

১৪ মে স্মরণে প্রকাশিতব্য একটি সংকলনের জন্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর স্মৃতিচারণ থেকে লেখাটি সংক্ষিপ্ত করে প্রকাশিত হলো।

 

সৌজন্যে : সিলেটভিউ।

Top