Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৬, ২১ জুমাদাল​-আউয়াল ১৪৪১

শীতল সরকার জয়ী, ঘরে ফিরবে কি সন্তান ও স্ত্রী?

 প্রকাশিত: ০৬, মে - ২০১৯ - ১১:১৬:৫১ PM

 

কূল ডেস্ক :: ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন শেষ হয়েছে। এতে ৩৩ ওয়ার্ডে জয়ী হয়ে আনন্দের সাগরে ভাসছেন সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৪৪ জন কাউন্সিলর। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর ৯ নং ওয়ার্ডে জয় লাভ করেছেন শীতল সরকার (৬৫)।

একেরপর এক নির্বাচনে অংশ নিয়ে টাকা-পয়সা, সময়সহ হারিয়েছেন স্ত্রী-সন্তানকে। বারবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যাওয়ায় তাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন স্ত্রী। যাবার আগে স্ত্রী বলে গিয়েছিলেন, কোনো দিন যদি তুমি নির্বাচন করে পাশ করতে পারো আমাকে আনতে যেও।

আর এবার জয়লাভ করায় স্ত্রী ঘরে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এবার কি ফিরবেন স্ত্রী-সন্তান? এমন প্রশ্নের জবাবে শীতল সরকার বলেন, ‘অহন সব ঠিক হইয়া যাইবো। বউ আইবো, সন্তানও আইবো। বউ তো যাওয়ার সময় কইয়া গেছিল আমি নির্বাচনে জিতলে আইবো।’

শীতল সরকারের এমন গল্প গণমাধ্যমে এসেছিল নির্বাচনের আগেই। শীতল সরকারের এই গল্পটি সেসময় ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে আসে নানারকম মন্তব্য।

আলী ইউসুফ নামের একজন নিজের ফেসবুক ওয়ালের স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বার বার পরাজয় বরণ করে সংসারের সর্বস্ব খুয়ানোর জন্য শীতল বাবুর স্ত্রী তার দুই সন্তানকে নিয়ে চলে যান বাবার বাড়িতে অনেক আগেই। যাওয়ার সময় তার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানটি এখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে। এরপর থেকে শীতল সরকার শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্যই লড়ছেন না। দীর্ঘদিন তিনি সংগ্রাম করছেন স্ত্রী সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য।’

সাদিয়া জামান নামের একজন লিখেছেন, রবার্ট ব্রুসের কথা উঠলেই আপনার-আমার মনে চলে আসে মাকড়শার গল্প, তাই না? ছোটবেলায় পড়ে আসা গল্পটি দিয়ে আমরা চিনেছিলাম অধ্যবসায়ের অবতার হিসেবে স্কটিশ বীর রবার্ট ব্রুসের কথা। গল্পে পড়া রবার্ট ব্রুস নয়, আজ আমার সাথে দেখা হয়েছে একজন সত্যিকারের অধ্যবসায়ের অবতারের সঙ্গে........।’

প্রসঙ্গত ২৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ পৌরসভার নির্বাচনে কমিশনার পদে নির্বাচন শুরু করেন শীতল সরকার। দীর্ঘ ৩৮ বছরে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ৭ বার। বরাবরই তিনি থেকেছেন দ্বিতীয় স্থানে। অবশেষে প্রথম সিটি নির্বাচনের কাউন্সিলর পদে মিষ্টি কুমড়া প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন। গত রবিবার অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে দুই হাজার ২৬১ ভোট পান তিনি।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৮ সালে লক্ষী সরকাররের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন শীতল সরকার। এর বছর খানেক পরই নির্বাচন হয় ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে। তখন লক্ষী সরকার অন্তঃসত্ত্বা। ওই নির্বাচনেও হেরে যান শীতল সরকার। সেই সাথে একের পর এক নির্বাচনে অংশ নিয়ে খোয়ান টাকা-পয়সাও। সব মিলিয়ে স্ত্রী গর্ভের সন্তানকে নিয়ে চলে যান নিজ বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়িতে।

এ বিভাগের​ আরও খবর


Top