Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৯ রমাদান​ ১৪৪০

আমি শৈশবে দেখেছি দারিদ্র কাকে বলে- ডা. মেরী

ডা. সালাহ উদ্দিন কামাল

 প্রকাশিত: ০২, মে - ২০১৯ - ০৭:০২:৩১ PM - Revised Edition: 30th April 2019

 

 

ডা. মেরীর সঙ্গে এক চিকিৎসক সম্মেলনে আমার প্রথম দেখা। সম্মেলন ছিল তার শহরে, তারই হাসপাতালে।
তাকে আমি চিনতাম না। চিনবার কথাও নয়। কত ডাক্তারই এসেছেন সম্মেলনে। তাকে আলাদা করে চিনবই বা কেন!

কিন্তু তার কিছু কাজ, ব্যাক্তিত্ব আমাকে চিনিয়ে দিল মেরীকে।
প্রথম দেখায় দেখলাম, তার সঙ্গে কিছু মানুষ। দেখলেই বোঝা যায়, মানুষ গুলো দরিদ্র। এক বয়স্ক নারী তো হাসপাতাল চত্বরেই হাঁটু গেড়ে বসে তাকে প্রনাম করে বসলেন।
অবাক হলাম দৃশ্যটি দেখে।
কিন্তু ডাক্তার মহিলাটি তাকে জড়িয়ে ধরে তুললেন। খুব যেন বকে দিলেন , ওভাবে হাঁটু গেড়ে বসার জন্য , প্রনামের জন্য।
তারপর সেখানে দাড়িয়েই প্রেসক্রিপশন করে দিলেন। নিজেই লম্বা লম্বা পায়ে ওষুধের কাউন্টার পর্যন্ত গেলেন। যোগাড় করে দিলেন ওষুধগুলো। কি এক অজানা আকর্ষণে আমি পুরোটা অনুসরণ করছিলাম।
বয়স্ক মহিলার চোখে তখন জলধারা। তারপরই আরও অবাক দৃশ্য। দেখলাম , বয়স্কাই শুধু নয়, তার সঙ্গের নানা বয়সী মানুষগুলো মাটিতে বসে তাকে প্রনাম করলেন। ডা. মেরী এবার আর বকলেন না।রীতিমত তেড়ে গেলেন মানুষগুলোর দিকে। তারপর তাদের মাটি থেকে তুলে গা পুছিয়ে নমস্কার করলেন। আর দক্ষিণ ভারতীয় মাথা নেড়ে নেড়ে স্মিত হাসি মুখে কিছু বললেন। বিদায় দিলেন রোগীদের।

এমন দৃশ্য আমি ঢাকাতেও দেখেছি। একজন বড় মন্ত্রীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্টেথিসকোপ দিয়ে দেখছিলেন মহা বিনয়ী এক ডাক্তার অধ্যাপক।

কিন্তু এই নারী ডাক্তার অন্যরকম । সে তো মন্ত্রী ফন্ত্রী দেখেন না। দেখেন মন্ত্রীদের ভোট দিয়ে বানায় যারা , তাদেরকে।

এরপর ভদ্রমহিলার সঙ্গে আলাপও হয়েছে। অত্যন্ত বিনয়ী। এবং ঋজু। টুকটাক কথা বার্তাও হয়েছে সম্মেলনে। অন্যদের কাছে আলাপে জেনেছি। তার পুরো নাম, ডা. মেরী পুনেন। তিনি এরকমই। হাসপাতালে যখন চলেন , তখন অনেক গরিব রোগী তার পেছন পেছন ছোটে। তিনি বিরক্ত হন না। বরং যেটা সম্ভব , রাস্তাতে দেখেন। ওষুধ পত্র যোগাড় করে দেন। নিজে থেকে প্রয়োজনে কিনেও দেন।
হাসপাতালে তার যে রুম, তার বাইরে রোগীদের ভিড় থাকেই। তিনি অক্লান্ত দেখেন।
এ কাহিনি কেরালার কোচি শহরের। সেখানে ডা. মেরীর নিজস্ব চেম্বার আছে। ফিস নেন। রোগী গরিব হলে এক পয়সাও নেন না। নিকট বন্ধু ডাক্তারদের কাছে হেসে বলেন, বড় লোক রোগীদের কাছে ফিস নিয়ে পুষিয়ে নিই।
এ পর্যন্ত কত হাজার গরীব রোগী ,তার ইয়ত্তা নেই। তবে তাকে ঘিরে তৈরী হয়েছে কিংবদন্তি। কেরালার মানুষ বলে, ডা. মেরীর কাছে গরীব রোগী জীবন পায়। তিনি গরীবদের বাঁচান। তিনি দেবী।
মেরী এমনটা করেন। তিনি গরীব পরিবার থেকে অনেক কষ্টে ডাক্তার হয়েছেন। তার নিকটাত্মীয় অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। সেসব মেরী ভোলেন নি। শৈশবে , কৈশোরে , ডাক্তার হওয়ার সময় প্রচুর কষ্ট করেছেন। দেখেছেন , রোগী গরিব হলে বাঁচে না। তাই সেটা মনে রেখেই তিনি গরীর রোগী বাঁচানোর সাক্ষাৎ দেবী।
___________________________

ডা. সালাহ উদ্দিন কামাল। এমডি ।

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top