Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ রবি-উস-সানি ১৪৪১

বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত বালাগঞ্জ ওসমানীনগরের কৃষকরা

 প্রকাশিত: ২৭, এপ্রিল - ২০১৯ - ১২:০০:০৫ AM - Revised Edition: 30th April 2019

মো. জিল্লুর রহমান জিলু ॥ বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর দু’টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সোনালী ধানের দোলায় ভরে উঠছে কৃষকের প্রাণ। ধারণা করা যাচ্ছে সাপ্তাহ দুইয়ের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমিতে ধান কাটা শেষ হয়েছে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত কাটা শেষ করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। সর্বত্র কৃষক কৃষাণীরা এখন তাদের ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।

অবশ্য গত শনিবার (২০ এপ্রিল) বালাগঞ্জ ওসমানীনগরের বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গেছে। বালাগঞ্জের মুক্তারপুর, মাকড়সি প্রভৃতি হাওরে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কায়সার ইকবাল শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চলতি বছর ১৫হাজার ৩শ ৫২হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত বোরো জমির মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড ২হাজার ৪শ ৪০, উফশী ১১হাজার ৯শ ৩২ এবং স্থানীয় জাতের ৯শ ৮০হেক্টর। এসব জমির মধ্যে বালাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ৭হাজার ৪শ ৮০হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১হাজার ১শ ৩৫, উফশী ৫হাজার ৮শ ৯৭ এবং স্থানীয় ৪শ ৪৮হেক্টর। ওসমানীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ৭হাজার ৮শ ৭২হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাইব্রিড ১হাজার ৩শ ০৫হেক্টর, উফশী ৬হাজার ৩৫হেক্টর এবং স্থানীয় ৫শ ৩২হেক্টর। দু’টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে বালাগঞ্জের দেওয়ান বাজার ইউনিয়নে ১হাজার ৫শ ৩০হেক্টর এবং সবচেয়ে কম হয়েছে ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নে ৮শ ৭০হেক্টর। বালাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে বোরো আবাদ হয়েছে ৮শ ৮০হেক্টর, বোয়ালজুড় ইউনিয়নে ৯শ ৭০হেক্টর, দেওয়ান বাজার ইউনিয়নে ১হাজার ৫শ ৩০হেক্টর, পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নে ১হাজার ৪শ ০৫হেক্টর, বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ১হাজার ৩শ ৭৫হেক্টর এবং পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নে ১হাজার ৩শ ২০হেক্টর। ওসমানীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে উমরপুর ইউনিয়নে বোরো আবাদ হয়েছে ১হাজার ২শ ১০হেক্টর, সাদীপুর ইউনিয়নে ১হাজার ২০হেক্টর, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নে ১হাজার ২০হেক্টর, বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নে ৯শ ৩০হেক্টর, গোয়ালা বাজার ইউনিয়নে ৯শ ৬০হেক্টর, তাজপুর ইউনিয়নে ৮শ ৯০ হেক্টর, দয়ামীর ইউনিয়নে ৭শ ৭০হেক্টর এবং উছমানপুর ইউনিয়নে ৯শ ৭২হেক্টর। চলতি বোরো মৌসুমের ফলন নিয়ে আলাপকালে বালাগঞ্জ উপজেলার পরিকোনা বিলের কৃষক নেফুর মিয়া, কবিরুল ইসলাম, মাইজাইল হাওরের কৃষক ফখরুল ইসলাম, গোরাপুর হাওরের কৃষক জাহেদ মিয়া প্রমুখ জানিয়েছেন তাদের জমিতে ফলন ভাল হয়েছে।

তবে বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনহার মিয়া আলাপকালে জানান গত শনিবার দুপুরে শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বোয়ালজুড় ও পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বোয়ালজুড় ইউনিয়নের ৫০ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর আলাপকালে বলেন, বোরো ফলন ভালই হয়েছে। তবে শিলাবৃষ্টিতে বালাগঞ্জে পূর্ব পৈলনপুর, বোয়ালজুড় বাজার ও ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গাবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টির কারণে হাজার হাজার কৃষক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এছাড়াও বালাগঞ্জ সদর, পূর্ব গৌরীপুর, পশ্চিম গৌরীপুর ও দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলার স্থানীয় মুক্তারপুর হাওর, মাকড়সি হাওরসহ প্রভৃতি এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে আলাপকালে বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কায়সার ইকবাল জানান বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমের বোরো ফসল ভাল হয়েছে। তবে গত শনিবার শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্নস্থানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও তিনি সত্যতা স্বীকার করেছেন। এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিভাগের​ আরও খবর


Top