Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর​ ১৪৪১

শিরোনাম :

নবীগঞ্জে ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, মামলা করে বিপাকে পরিবার!

 প্রকাশিত: ১৭, এপ্রিল - ২০১৯ - ০১:০৯:০৯ AM - Revised Edition: 30th April 2019

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের ২০ দিনেও কোন আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামি পক্ষের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবার। তবে পুলিশ বলছে অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।‌দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে, ভয়ে ও আতঙ্কে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ধর্ষণের শিকার শিশুটি। বার বার পরিবারের লোকজনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে স্কুলে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আলীপুর গ্রামের জনৈক কৃষকের কন্যা (৮)। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে পড়ে। তাঁর বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। পিতা বাড়িতে না থাকলে প্রায়সময়ই ওই ছাত্রী নিকটবর্তী হাওরে চড়ানো গরু-বাছুর বাড়িতে নিয়ে আসে।

গত ২০ মার্চ বিকেলে পিতা বাড়িতে না থাকায় বাড়ির পশ্চিমে মাঝের কান্দি হাওরে ওই ছাত্রী গরু আনতে যায়। সেখানে তাকে একা পেয়ে একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে জাকারিয়া জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় একই গ্রামের আব্দুল জলিল নামক জনৈক ব্যক্তি দূর থেকে ঘটনা দেখে এগিয়ে এলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। সাথে সাথে আব্দুল জলিল ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ২৬ মার্চ ধর্ষিতা শিশুর মা বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের ২০ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে ধর্ষণের বিচার দাবিতে তার সহপাঠী কয়েকশ’ শিশু রাস্তায় নেমেছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে তারা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার মা বলেন, ‘পৃথিবীকে চেনার আগেই আমার মেয়ের উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে, সে তান্ডব কাটিয়ে আমার মেয়ে কোন দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে কি-না জানি না। তবে এখন আমার মেয়ে স্কুলে আসা তো দূরের কথা ঘর থেকে বের হতেও চায় না। লোকজন দেখলেই সে ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকে।’

তিনি বলেন-‘আমার মেয়ে ঘর থেকেই বের হতে চায় না। সবসময় সে ভয়ে থাকে।’

ধর্ষিতার মা অভিযোগ করে বলেন- ‘আসামিপক্ষ মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমাকেসহ আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার কথা বলছে। আমার মেয়েকে যে লম্পট এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছে আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল দাশ মল্লিক বলেন, ‘আমাদের আশপাশে অনেক অপকর্মই ঘটে কিন্তু এ ছাত্রীর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা শোনার সাথে সাথে শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। আমরা ঘৃণ্য এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) গোলাম দস্তগীর বলেন- ‘মামলাটি তদন্ত করছেন গোপলারবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর কাউসার আলম। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামী গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ

Top