প্রবাসের পাণ্ডুলিপি - এক
প্রকাশিত: ০৯, সেপ্টেম্বর - ২০১৮ - ১১:৩১:৩৪ PM
২০১৬ সালের আগস্ট মাস। নিউইয়র্ক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। দেশ থেকেই একজন সাহিত্যিক হিসেবে কানাডার ভিসা নিয়ে আসি। সুতরাং কানাডা প্রবেশে আমার জন্য কোন সমস্যা হবার কথা না। কিন্তু সমস্যা হলো কানাডায় আমার কোন আত্মীয় বা কাছের কোন বন্ধু নাই। নিউইয়র্ক থাকা ছোটভাই নাজমুল যোগাযোগ করিয়ে দেয় মঈন চাচার সাথে। তিনি থাকেন টরন্টোতে! অবশেষে কোন কিছু না ভেবে মঈন চাচাকে বলি আমার জন্য বাসা ঠিক করবার জন্য। যেই কথা সেই কাজ। সংস্কৃতি ও নাট্যকর্মী ছোট ভাই অরূপ বাউল এর মাধ্যমে তখনি যোগাযোগ হয় মন্ট্রিয়লে বসবাসকারী বড় ভাই নজরুল আলম শানুর সাথে। তখন দু’টানায় পড়ে যাই। কী করবো বা আগে কোথায় যাবো ভাবতে থাকি। মঈন চাচাকে কথা দিয়েছি হিসেবে সিদ্ধান্ত নিই প্রথমে টরন্টোতে আসার। দিন ক্ষণ ঠিক করে চলে আসি টরন্টোতে। এসেই যোগাযোগ করি শানু ভাইর সাথে। শানু ভাইর এক কথাই মন্ট্রিয়ল চলে আসতে হবে। আমিও রাজী হলাম। বললাম বাসা দেখার জন্য। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব দেন তার বন্ধু ব্যবসায়ী বাবুল ভাইকে। দু’দিন পর বাবুল ভাইকে ফোন দিয়ে জানলাম যে বাসা ঠিক করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমি চলে আসি মন্ট্রিয়লে। অগিলভি এভিনিউতে দু’জন রুম ম্যাটের সাথে বাসায় উঠব বলে শানু ভাইর জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। কিছুক্ষনের মধ্যেই শানু ভাই চলে আসেন। আমাকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করবার জন্য মূল দরজাতেই আটকে যান। কারণ বাসার মূল ফটকে পা রাখতেই নাকে গাঁজার গন্ধ আসে। তাই তিনি বললেন এ বাসায় থাকা যাবে না!
তারপর শানু ভাই তাঁর পরিচিত একজনকে সাথে নিয়ে বাসার সন্ধানে নামেন। সন্ধান মিলল সিলেটের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন বাসায় ব্যাচেলর রুমের। আমরা সেখানে গিয়ে মালিকের সাথে কথা বললাম, তাঁর নাম শিবলি চৌধুরী। দেখলাম যে, শানু ভাইর সাথে ভালো সম্পর্ক। বাংলা স্কয়ার বিল্ডিংটি জ্যান্তালন ওয়েস্টে। আলাপ আলোচনা করে সিংগেল বেডের একটি রুম ভাড়া নেবার সিদ্ধান্ত নিই। দু রুমের জন্য একটি কিচেন ও একটি বাথরুম ছিলো। ভাড়া নির্ধারণ করা হলো ৩৭৫ ডলার।
কথা ছিলো ভাড়ার সাথে wifi সুবিধাও থাকবে। কিন্তু শিবলি ভাইর ব্যস্থতার কারণে প্রায় এক মাসেও সে সুবিধা আমি পাই নি। তখন আমি শিবলি ভাইকে জানালাম যে, আমি বাসায় থাকবো না। তিনিও তাতে দ্বিমত পোষণ করেন নাই। আমি চলে আসার সময় শিবলি ভাই বললেন যে, এ মাসের ভাড়া দেয়া লাগবে না। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম এখনো করছি।
হঠাৎ করে আমার মাথায় আসলো যে, তিনি তাঁর উদারতা দেখিয়েছেন কিন্তু আমাকেও দায়মুক্ত থাকতে হবে।( আমার গুরু বলতেন মানুষের মন আর আকাশের রঙ বোঝা মুশকিল। কখন রূপ বদলাবে বলা যাবে না। সুতরাং বর্তমানের দায় ভবিষ্যতের জন্য ঝুলিয়ে রাখাটা বোকামী ছাড়া আর কিছু না। ) সে কথা মাথায় রেখে আমিও সাথে সাথে বললাম, ঠিক আছে ভাই তাহলে আমার খাট ও ম্যাট্রেস রুমেই থাক। আপনি এসবসহ ভাড়া দিতে পারবেন। তিনিও তখন না বলেন নি। ফলে আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি দায়মুক্তও হই। তারপরও যদি....... (চলবে)
লেখকঃ ছড়াসাহিত্যিক, কানাডা প্রবাসী