Diclearation Shil No : 127/12
সিলেট, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ৮ শাবান ১৪৪১

হাওর পাড়ে বিয়ের ধুম, জলরাশিতে প্রতি দিনই দেখা মিলে বাহারী সাজের নৌকা

 প্রকাশিত: ৩০, অগাস্ট - ২০১৮ - ০৮:৫০:২০ PM

আনিসুল হক চৌধুরী মুন, শাল্লা : এবার হাওরে লেগেছে বিয়ের ধুম। প্রায় প্রতিদিনই হাওরের কোনো না কোনো গ্রামে থাকছে দু’তিনটি বিয়ের আসর। বাংলা জৈষ্ঠ্য মাসের শুরু থেকেই আরম্ভ হয়েছে এসব বিয়ের আয়োজন। এখন এ আয়োজন চলছে পুরোধমে। হাওরের হিন্দু-মুসলিম সব গ্রামেই বইছে বিয়ের আনন্দ।


গত দু’বছর হাওরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র জীবণজীবিকার উৎস্য কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধান অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায়। তাই তারা কোনো ভাবে খেয়ে-পড়ে বাঁচলেও বিয়েসহ সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্টান চোখে পড়েনি তেমন।


এবছর হাওরের কৃষকগণ তাদের একমাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারায় কৃষক পরিবারে ফিরেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। তাই বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের দিকে ফিরছে হাওরের গণ-মানুষ। গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় দেখা মিলছে আত্মীয়-স্বজনদের মিলনমেলা। হাওরে প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০টি বিয়ে নৌকা বা বজরা দেখা যায়। ওইসব নৌকাগুলো বাহারী সাজে সজ্জিত। এসব বিয়ের নৌকাগুলো পাড়ি দিচ্ছে বিশাল জলরাশি। সেই সাথে বাঁজছে সানাই। সানাইয়ের করুন সুর হাওরপাড়ের মানুষের মনে দিচ্ছে অযাচিত আনন্দ।


হাওরাঞ্চালে সাধারণত বর্ষা মৌসুমেই বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানের অয়োজন হয়ে থাকে। সেই চিরাচরিত নিয়মেই এবারও বর্ষায় হাওরের বিশাল জলরাশিতে দেখা মিলছে বাহারী বাঁজে সজ্জিত এসব বিয়ের নৌকার। আবারো কোনো বিয়ের নৌকাতে দেখা যাচ্ছে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র। আগেকার দিনের মতো শুধু মাইক বাঁজিয়ে বিয়ের বরযাত্রী যেতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি বর-কনের বাড়ি সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জায়। চলছে এভাটির সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম-বাংলার ধামালী গান।


শাল্লা উপজেলার মুনায়া গ্রামের তাবুর মিয়া এবছরেই বিয়ে দিয়েছেন তিন ভাইকে। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, টানা দু’বছর অকালে ফসলহানীর কারণে বিয়ে উপযুক্ত ভাইদের বিয়ে দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে সম্ভব হয়নি। এবছর জমিতে উৎপাদিত ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারায় আমি তিন ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন করেছি।


নারকিলা গ্রামের সুদিন তালুকদার জানান, আমার পরিবারের সবকিছুই নির্ভর করে একমাত্র বোরো ফসলের উপর। তাই গত দুই বছর ফসল তুলতে না পারায় ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে পারিনি। এবছর ফসল ভাল হাওয়ায় ও ঘরে তুলতে পারায় আনন্দের সাথে ছেলে ও মেয়ের বিয়ে দিতে পেরেছি।

এ বিভাগের​ আরও খবর


Top